প্রতি মাসে মাত্র ৪০০০ টাকা জমিয়েই হতে পারেন কোটিপতি! জানুন মিউচুয়াল ফান্ডের কোন জাদুকরী ফর্মুলা

প্রতি মাসে মাত্র ৪০০০ টাকা জমিয়েই হতে পারে ১.৩৮ কোটি টাকার ফান্ড! জেনে নিন এসআইপি-র জাদুকরী কৌশল
নিজস্ব সংবাদদাতা: কথায় আছে বিন্দু বিন্দু থেকেই সিন্ধু হয়। অনেকেরই ধারণা থাকে যে আয়ের পরিমাণ বা বেতন কম হলে হয়তো কোনওদিন কোটি টাকার তহবিল বা কর্পাস তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আসলে প্রয়োজন সঠিক এবং দীর্ঘমেয়াদী স্কিম বেছে নেওয়া এবং নিয়ম মেনে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া। একটু পরিকল্পনা করে চললে কম বেতনের চাকরি থেকেও বড় অঙ্কের সঞ্চয় করা সম্ভব।
৫০-৩০-২০ ফর্মুলা কী?
ধরুন আপনার মাসিক বেতন ২০,০০০ টাকা। সেক্ষেত্রে আপনি ফাইন্যান্সের বিখ্যাত ৫০-৩০-২০ ফর্মুলা ব্যবহার করতে পারেন:
-
৫০ শতাংশ: বাড়ি ভাড়া, খাবারের বিল এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য খরচ করতে হবে।
-
৩০ শতাংশ: বিনোদন এবং শখের জিনিস কেনার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
-
২০ শতাংশ: বাকি থাকা এই ২০ শতাংশ অর্থ সরাসরি বিনিয়োগের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে।
২০,০০০ টাকা বেতনের ক্ষেত্রে এই ২০% এর পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ঠিক ৪,০০০ টাকা। প্রতি মাসে এই ৪,০০০ টাকা দিয়ে আপনি একটি সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP) শুরু করতে পারেন।
কীভাবে জমবে ১.৩৮ কোটি টাকা?
যদি আপনি প্রতি মাসে ৪,০০০ টাকা করে এসআইপি-তে বিনিয়োগ করেন এবং সেখান থেকে গড়ে বার্ষিক ১২% রিটার্ন পাওয়া যায়, তবে দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই ছোট ছোট বিনিয়োগ থেকেই আপনার হাতে আসতে পারে প্রায় ১.৩৮ কোটি টাকা!
অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি বিনিয়োগ পুরোপুরি শেয়ার বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল, তাই এর রিটার্নের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
বিনিয়োগের সেরা উপায়
এসআইপি-র মধ্যেও বিভিন্ন রকম পদ্ধতি রয়েছে। একটি ফিক্সড এসআইপি-র মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমাতে পারেন। অন্যদিকে, স্টেপ-আপ এসআইপিতে বিনিয়োগকারীরা প্রতি বছর তাঁদের আয়ের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জমানোর পরিমাণ কিছুটা করে বাড়াতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ফান্ড তৈরি করতে সাহায্য করে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই ঝুঁকিসাপেক্ষ। তাই যে কোনও জায়গায় বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।)