চিনির দাম কি সত্যি ইথানলের জন্য বাড়ছে? চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল কেন্দ্র!

সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে চিনির দাম বাড়ার পেছনে ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করে চলা জল্পনা উড়িয়ে দিল কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইথানল তৈরির জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার কারণে দাম বাড়ছে—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা এবং মজুতদারির মতো বিষয়গুলোই এর মূল কারণ।

চিনির দাম বাড়ার আসল কারণগুলো কী? গত কয়েক সপ্তাহে দেশে চিনির দামে বড় রকমের উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত ২০ জুলাই যেখানে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা, সেখানে ২০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৭০ টাকায়। মন্ত্রকের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ:

  • উৎপাদন কম হওয়া: প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী দেশে ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) চিনি উৎপাদনের কথা থাকলেও, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আখের জমিতে রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমে প্রায় ৩০৬ LMT হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • উৎসবের চাহিদা ও মজুতদারি: আসন্ন উৎসবের মরশুমের আগে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং শিল্পের কিছু মহলের অতিরিক্ত মজুতদারি বা জল্পনা দাম বৃদ্ধিতে উসকানি দিয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: বিশ্বজুড়ে চিনির সরবরাহ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন চিনির দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৪৭৪ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫২ ডলার। ২০২৬-২৭ সালে বিশ্বে প্রায় ৩৩ লক্ষ মেট্রিক টন চিনির ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইথানল উৎপাদন কি আদৌ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে? সরকার জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে ইথানল উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ চিনি ব্যবহার করা হলেও, ২০২৫-২৬ সালে তা কমিয়ে প্রায় ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই তৈরি হচ্ছে ভুট্টাসহ অন্যান্য শস্য থেকে। অতিরিক্ত চিনি ইথানলে রূপান্তর করায় চিনিকলগুলির আটকে থাকা টাকা উদ্ধার সহজ হয়েছে এবং আখ চাষিরা তাঁদের বকেয়া টাকার ৯৭ শতাংশ ইতিমধ্যেই হাতে পেয়ে গেছেন। এর ফলে এই শিল্পে সরকারের ভর্তুকির ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মূল্যবৃদ্ধি রোধে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের বাজারে চিনির পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার:

  • মজুত সীমা নির্ধারণ: ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুত রাখার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

  • বুল্ক কনজ্যুমারদের ওপর কড়াকড়ি: ১ সেপ্টেম্বর থেকে বড় ক্রেতারা ১৫ দিনের বেশি ব্যবহারের জন্য চিনি মজুত করতে পারবেন না।

কেন্দ্রের দাবি, নতুন আখ ঝাড়াইয়ের মরশুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি মজুতের ভাণ্ডার রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *