স্কুলে ঢোকার আগেই তুমুল হাঙ্গামা! সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের রোষানলে পড়লেন CJP কর্মীরা

রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো ও শিক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ ঘিরে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হল। স্কুলের অন্দরে ঢোকার আগেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয় এক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দলকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শেষ পর্যন্ত বচসা এবং হাতাহাতির জেরে বাধ্য হয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয় তাঁদের।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে জয়পুরের সাঙ্গানিয়ারের কাছে রামপুরা কাঁওরপুরা গ্রামে। জানা গিয়েছে, সরকারি স্কুলটির শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করতেই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র একটি প্রতিনিধি দল। দলের সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে এই পূর্বনির্ধারিত সফর থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দলের বেশ কয়েকজন কর্মী স্কুলে পৌঁছে যাওয়ায় শুরু হয় বিপত্তি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল আপত্তি ছিল স্কুল চত্বরে বাইরের লোকজনের হঠাৎ এই প্রবেশ নিয়ে। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, স্থানীয় সরকারি স্কুলে কারা প্রবেশ করছেন এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই পরিদর্শন চলছে, সে বিষয়ে স্থানীয় স্তরে বা তাঁদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। এই কারণেই CJP কর্মীদের স্কুলের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন দলের সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর উপস্থিতি মাত্রই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রামবাসী ও দলের কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। অভিযোগ, কথা কাটাকাটি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি আশুতোষ রাঙ্কা এবং তাঁর সঙ্গীদের মারধরও করা হয়। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল হয়ে পড়ে যে শেষ পর্যন্ত ওই প্রতিনিধি দলকে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।
এই ঘটনার জেরে দলের কর্মী শিবাঙ্গী শর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পরিদর্শনে যাওয়া কর্মীদের একাংশ ‘সন্ত্রাসবাদী’ এবং ‘নকশাল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন স্থানীয় কিছু মানুষ। তাঁর প্রশ্ন, দেশের নাগরিক হিসেবে সরকারি স্কুলের শিশুদের পঠনপাঠন ও পরিকাঠামো নিয়ে খোঁজ নেওয়া কি অপরাধ?
ঘটনার পর যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়ালেও গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো পাল্টা বা লিখিত অভিযোগ সামনে আসেনি। মারধরের অভিযোগের সত্যতা কিংবা ঠিক কী কারণে এই উত্তেজনার সূত্রপাত, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির খবর মেলেনি। স্কুল পরিদর্শনের মতো একটি সাধারণ বিষয় কেন এই মাত্রায় হাতাহাতি ও সংঘাতে গড়াল, তা নিয়ে এখন জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে।