সিনেমার পর্দা ছাড়িয়ে সোজা যুদ্ধের ময়দানে! রণবীরের ‘রামায়ণ’-এ আসছে অবিশ্বাস্য ২৭০ ডিগ্রি টেকনোলজি

সিনেমা হলে গিয়ে পপকর্ন হাতে সামনে ঝুলে থাকা সাদা পর্দার দিকে তাকিয়ে ছবি দেখার দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? এবার আর শুধু ছবি দেখা নয়, একেবারে তার ভেতরে ঢুকে পড়ার অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা দিতে ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে আসছে অত্যাধুনিক ‘স্ক্রিনএক্স’ (ScreenX) প্রযুক্তি। রণবীর কাপুর, যশ এবং সাই পল্লবী অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত মেগা-বাজেট ছবি ‘রামায়ণ’ হতে চলেছে প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র, যা এই বিশেষ ফরম্যাটে মুক্তি পাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।
অনেকেই একে বাঁকানো পর্দা বলে ভুল করেন। কিন্তু আসলে স্ক্রিনএক্স হলো একটি মাল্টি-প্রজেকশন বা ৩-পর্দার সিস্টেম। এতে আপনার সামনের প্রধান ৪কে লেজার স্ক্রিনের পাশাপাশি থিয়েটারের বাম ও ডান দিকের দেয়ালেও বিশেষ প্রজেক্টর বসানো থাকে। ফলে কোনো বিশাল অ্যাকশন দৃশ্য, যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য যখন পর্দায় ফুটে ওঠে, তখন তা ২৭০-ডিগ্রি ভিউতে দুই পাশের দেয়ালেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দর্শক নিজেকে ছবির দর্শকের আসনে নয়, বরং স্ক্রিনের ভেতরের একটি অংশ বলে মনে করতে শুরু করেন।
২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত বিনোদন সংস্থা সিজে সিজিভি এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিল। এর আগে হলিউডের ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ বা ‘অ্যাভাটার’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি এই ফরম্যাটে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। ভারতেও মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতার মতো কয়েকটি বাছাই করা মাল্টিপ্লেক্সে এর উপস্থিতি রয়েছে। তবে ছবি চলাকালীন পুরো সময়টা তিনটি পর্দায় দৃশ্য দেখানো হয় না। সাধারণত আড়াই ঘণ্টার একটি ছবির ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট এই ২৭০-ডিগ্রি ভিউতে উপভোগ করা যায়। আর নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’-এর মতো পৌরাণিক মহাকাব্যে বানর সেনা বনাম রাবণের বিশাল যুদ্ধের দৃশ্য এই প্রযুক্তিতে দেখলে দর্শকদের রোমাঞ্চ যে বহুগুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।