ফান্ডে জমেছে ৮,৪৫২ কোটি টাকা, কিন্তু খরচ মাত্র ৮৮ লাখ! পিএম কেয়ার্সের নতুন রিপোর্টে চাঞ্চল্য

জরুরি ও সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার উদ্দেশ্যে গঠিত PM CARES Fund-এর আয়, ব্যয় এবং অনুদান সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রকাশিত সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তহবিলে দেশীয় এবং বিদেশি—উভয় প্রকার অনুদানের পরিমাণই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে অনুদান কমলেও সুদের আয় ও অন্যান্য কারণে এই তহবিলের মোট পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮,৪৫২ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুদান হ্রাসের চিত্র

অডিট রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পিএম কেয়ার্স ফান্ডে দেশীয় অনুদান হিসেবে প্রায় ৪৭৯.০৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর আগের অর্থবর্ষে (২০২৩-২৪) এই অংকের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৮১.৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশীয় অনুদান কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আগের অর্থবর্ষে ১.১৩ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পাওয়া গেলেও, সাম্প্রতিক অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯২.৮ লক্ষ টাকায় (বা ৯.২৮ মিলিয়ন টাকা), যা প্রায় ১৮ শতাংশ কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে করোনা মহামারীর সময়ে অভ্যন্তরীণ অনুদান সর্বোচ্চ ৭১৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে।

তহবিলের পরিমাণ ও ফিক্সড ডিপোজিট

২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, পিএম কেয়ার্স ফান্ডের মোট স্থিতি বা কর্পাসের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৪৫২ কোটি টাকায়, যা আগের বছর ছিল ৭,১৭৩ কোটি টাকা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বিশাল পরিমাণের প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থই ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি আকারে জমা রাখা হয়েছে। মোট তহবিলের মধ্যে ৭,৮৪৬ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিটে এবং প্রায় ৬০৫ কোটি টাকা সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত ফিক্সড ডিপোজিট থেকে আসা মোটা অংকের সুদই এই তহবিলের আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে।

ব্যয় বরাদ্দ ও প্রকল্প খরচ

তহবিলের খরচ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই তহবিল থেকে অত্যন্ত সীমিত পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘পিএম কেয়ার্স ফর চিলড্রেন’ প্রকল্পে এই বছরে মাত্র ৮৭.৮ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। যেখানে এর আগের অর্থবর্ষে এই একই খাতে প্রায় ১৫.৩৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। সব মিলিয়ে আলোচিত অর্থবর্ষে তহবিল থেকে মোট ৮৭.৮৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারীর সংকটকালে হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং ভেন্টিলেটর কেনার মতো জরুরি পদক্ষেপের জন্য এই PM CARES Fund গঠন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান অর্থবর্ষে অনুদান কমে যাওয়া এবং বিশাল পরিমাণ অর্থ অলসভাবে ফিক্সড ডিপোজিটে পড়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *