রাখি পূর্ণিমায় সূর্যগ্রহণের ছায়া! ২৮ আগস্ট রাখি পরানোর ক্ষেত্রে কোন নিয়মগুলো মানা জরুরি?

আগামী ২৮শে আগস্ট, শুক্রবার পালিত হতে চলেছে ভ্রাতৃপ্রেমের উৎসব ‘রক্ষা বন্ধন’। তবে এবারের রক্ষা বন্ধন ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে, কারণ দিনটিতে গ্রহণ সংক্রান্ত কিছু জ্যোতিষীয় ও ধর্মীয় প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। শাস্ত্রমতে, গ্রহণের সময় বা তার পূর্ববর্তী ‘সূতক কাল’-এ যেকোনো শুভ কাজ, পূজা-অর্চনা বা আচার-অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বেশি থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।

সূতক কাল ও মন্দিরের নিয়মাবলী

ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহণের আগে সূতক কাল শুরু হলে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সময়ে দেব-দেবীর মূর্তিকে স্পর্শ করা বা পূজা করা নিষিদ্ধ। রক্ষা বন্ধনের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ম হলো, যদি সূতক কাল চলমান থাকে, তবে সেই সময়ের মধ্যে রাখি বাঁধার প্রথা স্থগিত রাখা উচিত। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, সূতক কালে শুধুমাত্র ঈশ্বরের ধ্যান করাই সর্বোত্তম। যদি সূতক শুরুর আগে রাখি পরানো সম্ভব না হয়, তবে গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

ভারতে দৃশ্যমানতা ও নিয়মাবলি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গ্রহণটি ভারতে দৃশ্যমান কি না। জ্যোতিষবিদদের মতে, যদি কোনো গ্রহণ ভারতে দেখা না যায়, তবে সেক্ষেত্রে সূতক কাল কার্যকর হয় না। এমন পরিস্থিতিতে রক্ষা বন্ধনের পূজা বা রাখি বাঁধার প্রথা পালনে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার সাধারণ প্রথা বা স্থানীয় পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী সঠিক সময়ে উৎসব পালন করতে পারেন। তবে, যদি গ্রহণটি ভারতে দৃশ্যমান হয়, তবেই ধর্মীয় নিয়ম ও বিধিনিষেধ মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এবারের চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই জানানো হয়েছে।

গ্রহণ পরবর্তী শুদ্ধিকরণ ও অনুষ্ঠান

যদি গ্রহণ দৃশ্যমান হয় এবং আপনি নিয়ম মানতে চান, তবে গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বাড়ির মন্দির ও প্রতিমা গঙ্গার জল ছিটিয়ে শুদ্ধ করতে হয়। এরপর ভাই-বোনেরা স্নান সম্পন্ন করে শুভক্ষণে রাখি বাঁধার অনুষ্ঠান শুরু করতে পারেন। শাস্ত্র মতে, গ্রহণ শেষ হওয়ার পর দান-ধ্যান এবং পূজা করা অত্যন্ত পুণ্যময়। সঠিক নিয়ম ও পবিত্রতা বজায় রেখে এই উৎসব পালন করলে ভাই ও বোন উভয়ের জীবনেই সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার অঞ্চলে গ্রহণ দৃশ্যমান কি না তা নিশ্চিত হতে স্থানীয় পঞ্চাঙ্গ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *