ছোট বয়সেই বয়স্কদের মতো লক্ষণ! আপনার সন্তানের মধ্যে এই মারাত্মক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে না তো?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটা নিয়ম। কিন্তু কোনও শিশুর মধ্যে যদি অকালেই প্রাপ্তবয়স্কসুলভ পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আপনার সন্তানও কি তার বয়সের তুলনায় বেশি বড় দেখায়? খুব কম বয়সে কোনও শিশুর ভারী গড়ন, গম্ভীর কণ্ঠস্বর বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতা কেবল অন্যদের জন্যই নয়, খোদ ওই শিশুদের জন্যও মানসিক কষ্টের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যেসব শিশু তাদের প্রকৃত বয়সের চেয়ে বয়স্ক দেখায়, তারা প্রায়ই মানসিক চাপ, খিটখিটে মেজাজ এবং সামাজিক মেলামেসার নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়। সময়মতো এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং জীবনযাপন-জনিত বহু দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং জীবনযাত্রার প্রভাব

গত কয়েক দশকে শিশুদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাড়ির খাবারের পরিবর্তে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার ফলে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বাড় দ্রুত ওজন বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। স্থূলতা শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে, যা অল্প বয়সে বয়ঃসন্ধি শুরুর অন্যতম প্রধান কারণ।

সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে আট থেকে তেরো বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে নয় থেকে চৌদ্দ বছর বয়সের মধ্যে বয়ঃসন্ধি শুরু হয়। এর আগে এই লক্ষণ দেখা দিলে তাকে ‘অকাল বয়ঃসন্ধি’ বলা হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তনের বিকাশ, দ্রুত উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঋতুস্রাব শুরু হওয়া এর প্রধান লক্ষণ। অন্যদিকে, ছেলেদের ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া, পেশির গঠন এবং মুখে দাড়ি-গোঁফ গজানোর মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।

প্লাস্টিক ও স্ক্রিনটাইম কেন বিপজ্জনক?

শিশুদের প্লাস্টিকের বোতল, টিফিন বক্স বা প্লাস্টিকে মোড়ানো খাবার দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এসব সামগ্রীতে থাকা বিসফেনল এবং থ্যালেটসের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে হরমোনের কার্যকলাপে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে, যা অকাল বয়ঃসন্ধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

পিজিআইএমএস (PGIMS)-এর পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আট বছর বয়সের আগেই ঋতুস্রাব শুরু হওয়া এবং থাইরয়েডজনিত সমস্যার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। চিকিৎসকরা এখন চার বছর বয়সি মেয়েদের মধ্যেও ঋতুস্রাব এবং সাত বছর বয়সিদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা লক্ষ্য করছেন। ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজির মতে, স্মার্ট গ্যাজেটের অত্যধিক ব্যবহারই এই আধুনিক সংকটের অন্যতম বড় অনুঘটক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *