শেয়ার বাজারের অস্থিরতায় রাতের ঘুম উড়েছে? কম ঝুঁকিতে নিশ্চিত মুনাফার নতুন দিশা দেখাল নিপ্পন ইন্ডিয়া!

শেয়ার বাজারের বর্তমান ওঠানামা এবং পতন নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল নিপ্পন ইন্ডিয়া মিউচুয়াল ফান্ড। বাজারের এই অস্থিরতার মাঝে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত ও ভালো রিটার্ন দিতে একটি নতুন ফান্ড অফারিং বা এনএফও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নিপ্পন ইন্ডিয়া ইনকাম প্লাস আরবিট্রেজ অমনি ফান্ড অফ ফান্ডস নামের এই নতুন স্কিমটি কম অস্থিরতা এবং উন্নত কর দক্ষতার সঙ্গে উন্নত রিটার্ন দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই এনএফও-তে আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন ইচ্ছুক বিনিয়োগকারীরা।

যেভাবে কাজ করবে এই নতুন ফান্ড
এই ফান্ডটির বিনিয়োগ কৌশল বেশ সুবিন্যস্ত। এর প্রায় সম্পূর্ণ অংশ অর্থাৎ ৯৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ মূলধন আরবিট্রেজ মিউচুয়াল ফান্ড এবং সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় ডেট মিউচুয়াল ফান্ডের মিশ্রণে খাটানো হবে। এর পাশাপাশি ডেট এবং মানি মার্কেট ইনস্ট্রুমেন্টে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকছে।

ফান্ডটির গঠন অনুযায়ী, এতে আরবিট্রেজ ফান্ডে ন্যূনতম ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, সক্রিয় ডেট ফান্ড, প্যাসিভ ডেট ফান্ড এবং মানি মার্কেট ফান্ডে সম্মিলিত বিনিয়োগ যেকোনো সময়ে ৬৫ শতাংশের নিচে রাখা হবে। এই বিশেষ কাঠামোর কারণে ফান্ডটি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত কর-সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।

করের সুবিধা ও বিনিয়োগের মেয়াদ
যেহেতু ফান্ডটি ৬৫ শতাংশের কম অংশ ডেট বা নির্দিষ্ট আয়ের খাতে বিনিয়োগ করে, তাই এটি দুই বছর বা তার বেশি মেয়াদের বিনিয়োগকারীদের জন্য করের দিক থেকে বেশ লাভজনক। নিয়ম অনুযায়ী, এই ফান্ডের ইউনিটগুলো ২৪ মাসের বেশি সময় ধরে রাখলে লাভের ওপর ১২.৫ শতাংশ হারে দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ বা এলটিসিজি কর দিতে হবে। তবে ২৪ মাসের কম সময়ে বিক্রি করলে বিনিয়োগকারীর নিজস্ব আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর ধার্য করা হবে। ফলে যারা অন্তত দুই থেকে তিন বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য টাকা জমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে।

আর কী কী সুবিধা মিলছে?
বিশুদ্ধ ডেট বা সাধারণ আরবিট্রেজ ফান্ডের তুলনায় এই নতুন ফান্ডে একাধিক কৌশল একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে। প্রথাগত ডেট ফান্ডগুলো প্রধানত ডেট ও মানি মার্কেট ইনস্ট্রুমেন্টে ফোকাস করে, আর আরবিট্রেজ ফান্ড কাজ করে হেজড ইক্যুইটি পজিশনের মাধ্যমে। কিন্তু এই একক পোর্টফোলিওতে উভয় ব্যবস্থার সুবিধা একসঙ্গে মিলবে।

ফান্ড ম্যানেজার নিজেই বাজারের পরিস্থিতি বুঝে অন্তর্নিহিত স্কিমগুলোর নির্বাচন ও পুনর্বিন্যাস করবেন। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের নিজেদের বারবার ফান্ড পরিবর্তন করার ঝামেলায় পড়তে হবে না এবং বারবার ফান্ড বদলানোর কারণে যে করের বোঝা তৈরি হয়, তাও এড়ানো সম্ভব হবে। সুদের হারের ওঠানামার ঝুঁকি কমিয়ে দুই থেকে তিন বছরের মেয়াদে ভালো রিটার্ন পেতে চাওয়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখেই এই স্কিমটি বাজারে আনা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *