মৃত্যুফাঁদ! মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘিঞ্জি হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, ৯ জনের প্রাণ গেল কেন?

নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘিঞ্জি এলাকায় বুধবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল শহর। ‘শিখাহীন’ নামক একটি হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জন আবাসিক পর্যটকের। প্রাণহানির পাশাপাশি এই ঘটনা ফের একবার শহরের হোটেলগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। সরু রাস্তার ওপর অবস্থিত ওই পাঁচতলা ভবনটি কোনো হোটেলের চেয়ে গোলকধাঁধার চেয়ে কম কিছু নয়। সিঁড়িগুলো অত্যন্ত সরু এবং বাঁকানো, যার সামনে মাত্র দেড় ফুটের প্যাসেজ। প্রতিটি তলায় ঘিঞ্জিভাবে তৈরি করা হয়েছে একের পর এক খুপরি হোটেল। দমকল মন্ত্রীর অভিযোগ, “এমন জায়গা, যেখানে পাশাপাশি দুজন মানুষ নড়াচড়া করতে পারেন না। নেই কোনো এক্সটার্নাল ফায়ার এক্সিট। এই ধরনের ভবনে হোটেল চালানোর ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলো কীভাবে?”

প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, হোটেলের এসির শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি ঘটেছে। প্লাইউড ও সানমাইকার কারুকাজে সাজানো হোটেলের অন্দরমহলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বালাই ছিল না। আর সেই চরম গাফিলতির মাশুল দিতে হলো নিরপরাধ নয়জন মানুষকে।

অতীতের জোড়াসাঁকো অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের সব হোটেল অডিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পুরসভা ও দমকল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল কমিটি। কিন্তু পুরসভা সূত্রের খবর, লোকবলের অভাব এবং প্রশাসনিক ঢিলেমির জেরে সেই অডিট প্রক্রিয়া মাঝপথেই থমকে যায়। শহরে চিহ্নিত ৩৭৮৮টি হোটেলের মধ্যে মাত্র ১৫-২০টির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর আর কোনো বৈঠক বা অডিট রিপোর্ট জমা পড়ার ঘটনা ঘটেনি।

এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, “লোকবলের অভাবে আমরা থার্ড পার্টি অডিট টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। ভবনগুলোতে ফায়ার সেফটির নজরদারি মূলত দমকলেরই দেখার কথা।”

তবে দায় কার—পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ নাকি দমকলের নজরদারি—সেই তর্কেই এখন বিদ্ধ শহর। ঘিঞ্জি এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনার পর দ্রুত তদন্ত শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ফের কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অপেক্ষায় কি বসে থাকতে হবে প্রশাসনকে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *