পদ্মশ্রী বাউল সম্রাটের ৪ বিঘা জমি দখলের চক্রান্ত! অনুব্রত-চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য।

তৃণমূলের পূর্ববর্তী শাসনকালে জমি দখল হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন প্রখ্যাত ‘বাউল সম্রাট’ পূর্ণদাস বাউল। তবে সে সময় শত চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে অবশেষে নিজের পৈতৃক ও কেনা জমি ফেরত পাওয়ার দাবিতে বীরভূমের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত এই বাউল শিল্পী এবং তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। বীরভূমের ইলামবাজারের কামারপাড়ায় অবস্থিত পূর্ণদাস বাউলের প্রায় চার বিঘা জমি স্থানীয় মাফিয়ারা জবরদখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে তৎকালীন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন স্বয়ং বাউল সম্রাট ও তাঁর পরিবার।
কীভাবে জবরদখল হলো জমি? ইলামবাজার থানার কামারপাড়া এলাকায় রাস্তার ধারেই বাউল সম্রাটের মোট ১০ বিঘার একটি বিশাল সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগ, গত প্রায় পনেরো বছর ধরে সুকৌশলে অল্প অল্প করে সেই জমির চার বিঘারও বেশি অংশ জবরদখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমি মাফিয়ারা। এই বিষয়ে এর আগে ২০২৩ সালে বোলপুর মহকুমাশাসক, বীরভূম জেলাশাসক এবং জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শিল্পী। সে সময় প্রশাসনের তরফে মাপঝোঁক করা হলেও জমি উদ্ধার করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। পরিবারের দাবি, ওই জমি জবরদখলের পেছনে খোদ অনুব্রত মণ্ডল ও তৎকালীন মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহের মদত ছিল। এমনকি সেই সময় তৎকালীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও নালিশ জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি, এমনটাই জানিয়েছে শিল্পীর পরিবার। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত নেতা অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে জানান যে তিনি এসবের সঙ্গে যুক্ত নন।
আইনি লড়াই ও প্রশাসনের আশ্বাস বর্তমানে ৯৩ বছর বয়সি পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল শারীরিক অসুস্থতার কারণে মূলত হুইলচেয়ারেই চলাফেরা করেন। বিশ্বের দরবারে বাংলার বাউল গানকে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। বিশ্বখ্যাত মার্কিন সুরকার বব ডিলানের সঙ্গেও অতীতে কাজ করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
এহেন বিশ্ববরেণ্য একজন প্রবীণ শিল্পী বছরের পর বছর ধরে নিজের জমি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে সাংস্কৃতিক ও শিল্পী মহলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের সঙ্গে দেখা করে জমির সমস্ত আইনি নথিপত্রের প্রতিলিপি জমা দিয়েছেন পূর্ণদাস বাউলের পরিবার। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জমি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা এখন অনেকটাই আশাবাদী। জেলাশাসকও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। একসময়ে তৃণমূলের দাপুটে জমানায় বাউল সম্রাটের জমি বেদখলের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।