KBC-র প্রথম কোটিপতি এখন কোথায়? ১ কোটি জেতার পর জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার যে রহস্য ফাঁস করলেন হর্ষবর্ধন!

ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC)—নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অমিতাভ বচ্চনের সেই জলদমন্দ্র কণ্ঠস্বর আর হটকসিটের চিরচেনা আলো। কিন্তু আপনার কি মনে আছে এই আইকনিক শো-এর প্রথম সিজনের প্রথম কোটিপতি কে ছিলেন? তিনি আর কেউ নন, হর্ষবর্ধন নওয়াঠে। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া সেই মানুষটির জীবন ১ কোটি টাকা জেতার পর ঠিক কীভাবে সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল, তা নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি!

যেভাবে ভাগ্য বদলেছিল হর্ষবর্ধনের যখন হর্ষবর্ধন কেবিসি-র হটসিটে বসে ১ কোটি টাকার ঐতিহাসিক প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন, তখন তিনি মূলত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এক সাধারণ ছাত্র হিসেবে। মায়ের জোরাজুরিতেই অডিশন দিতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। আর সেই একটি সিদ্ধান্তই তাঁর পুরো জীবনকে এক পলকে সম্পূর্ণ অন্য মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, “কেবিসি আমাকে এমন একটা প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিল যা আমার কাছে একটা ‘সেফটি নেট’-এর মতো কাজ করেছিল। এর ফলে আমি জীবনের বড় ঝুঁকিগুলো নিতে পেরেছিলাম। সিভিল সার্ভিস আর করা হয়নি, কারণ সেই আগ্রহটাই আর কাজ করেনি। আমাকে মুম্বইতেই থাকতে হয়েছিল পিআর এবং নানা কাজে।”

টাকার সঠিক ব্যবহার ও বিলেতে উচ্চশিক্ষা হর্ষবর্ধন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, ওই ১ কোটি টাকার পুরস্কার মূল্য তাঁকে এমন এক দুর্দান্ত আর্থিক স্বাধীনতা দিয়েছিল, যার কারণে তাঁকে বড় কোনো ঋণের বোঝায় ডুবতে হয়নি। অর্জিত সেই টাকা দিয়েই তিনি সুদূর বিলেতে গিয়ে নিজের এমবিএ ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন। পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে পুরোদমে শুরু করেন তাঁর প্রফেশনাল কেরিয়ার। তাঁর মতে, কেবিসি তাঁর কেরিয়ারের জন্য এক দারুণ নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিয়েছিল, যার ওপর ভর করে তিনি নিজের শর্তে জীবন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বিগ বির সঙ্গে বিরতির সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত হর্ষবর্ধন ভাগ করে নিয়েছেন ১ কোটি টাকা জেতার ঠিক পরের মুহূর্তের এক রোমাঞ্চকর স্মৃতি, যা এর আগে তিনি কখনও কোথাও বলেননি। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কেবিসি-র ১ কোটি টাকার সঠিক উত্তর দেওয়ার পর অমিতাভ বচ্চন যখন ঘোষণা করলেন, “এখন আমরা একটি ছোট্ট বিরতি নিচ্ছি” এবং শো অফ-এয়ার চলে গেল (কমার্শিয়াল ব্রেক), ঠিক তখনই হর্ষবর্ধন বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন!

শুটিংয়ের সময় সাধারণত ওই কমার্শিয়াল ব্রেকগুলো খুবই ছোট হয়—মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মতো, যার পরেই ক্যামেরা আবার অন হয়ে যায়। কিন্তু ওই কয়েক মুহূর্তের বিরতিতে খোদ অমিতাভ বচ্চন এবং হর্ষবর্ধনের মধ্যে যে আবেগঘন ও উত্তেজনার মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, তা আজও তাঁর মনের মণিকোঠায় অম্লান হয়ে আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *