ছুটির দিনেও জনগণনা! শিক্ষকদের কাজের চাপ ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়হীনতা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন বিচারপতির।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিয়ে জনগণনার কাজ করানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলায় উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একদিকে শিক্ষার অধিকার আইনের কথা মাথায় রেখে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, পড়াশোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে শিক্ষকদের কেন এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছে? পাশাপাশি, বিধানসভার কর্মচারীদের কেন এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেই পরামর্শও দিয়েছে আদালত।

আদালতের মূল প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • সময়সীমা নিয়ে সংশয়: আগামী ১ মাসের মধ্যে কি আদৌ জনগণনার মতো বড় কাজ সুচারুভাবে শেষ করা সম্ভব হবে? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি।

  • কেন্দ্র-রাজ্যের নির্দেশিকায় অমিল: কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত জনগণনার কাজ করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, স্কুলের নিয়মিত সময়ের পরে বা ছুটির দিনে এই কাজ করতে হবে। এই পরস্পরবিরোধী নির্দেশিকার জেরে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের কী দশা হবে, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

  • সমন্বয়ের অভাব: কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিচারপতির কৌতূহলী প্রশ্ন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারে তো এই ধরনের সমস্যা থাকার কথা নয়!”

জনগণনা প্রক্রিয়ার সময়সীমা এবং কর্মীদের কাজের চাপ সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই ও আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এখন শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *