‘মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’! ৯৮% শর্ত পূরণ করার পরেও লাইসেন্স স্থগিত রাখায় এফডিএ-কে কড়া বার্তা আদালতের

খাদ্য সুরক্ষা আইনের নিয়মকানুন ৯৮ শতাংশ পূরণ করা সত্ত্বেও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স স্থগিত রাখার অভিযোগে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ প্রশাসন বা এফডিএ (FDA)-কে বড় অঙ্কের জরিমানা করার নির্দেশ দিল আদালত। ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতির কথা মাথায় রেখে পুনের একটি মিষ্টির দোকানকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার উদ্দেশ্য সাধু হলেও তাদের এই অতিরিক্ত কড়াকড়ি আসলে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ পদক্ষেপ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার অভিযোগ ওঠার পর এফডিএ-র একজন খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা গত ১২ জুন পুনের ‘গুরু নানক ডেইরি অ্যান্ড সুইটস’ নামের ওই মিষ্টির দোকানটি পরিদর্শন করেন। পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই দিনই দোকানটির লাইসেন্স স্থগিত করার নির্দেশ দেয় বিভাগটি। আদালতের কাছে করা আবেদনে দোকানের মালিকরা জানান, দোকান বন্ধ থাকার জেরে তাঁদের প্রায় ৮ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এরপর দোকানের পক্ষ থেকে সমস্ত নিয়ম ও শর্ত যাচাই করে এফডিএ-র কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। ১৩ জুলাই পুনরায় দোকানটি পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, তারা ৯৮ শতাংশ নিয়মই সঠিকভাবে মেনে চলছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হয়নি। বারবার আবেদন জানিয়েও কোনো ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ীরা।

হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, লাইসেন্স স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অদ্ভুত। আদালত এফডিএ-র উদ্দেশে কড়া ভাষায় বলেছে, “আপনাদের উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় এবং আপনারা কাজ করতে চাইছেন, তা ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা বাড়াবাড়ি করছেন। পুনরায় পরিদর্শনের রিপোর্টে যখন স্পষ্ট দেখা গেল যে দোকানের মালিকরা ৯৮ শতাংশ শর্ত মেনে চলেছেন, তখনই আপনাদের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া উচিত ছিল।”

আদালত শুধু ওই মিষ্টির দোকানটিকে অবিলম্বে ব্যবসা পুনরায় শুরু করার অনুমতিই দেয়নি, সেই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে মালিকপক্ষকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে মহারাষ্ট্র এফডিএ-কে। অন্যদিকে, এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ডে জানিয়েছেন যে, আদালতের সম্পূর্ণ রায়টি খতিয়ে দেখে তবেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *