‘এসে আমাদের দেহ নিয়ে যাও…’ মাকে শেষ মেসেজ পাঠিয়েই আত্মঘাতী নৌবাহিনীর নাবিক!

বিয়ের মাত্র চার বছরের মাথায় এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের মুম্বই। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদের জেরে স্ত্রী এবং দুই কোলের সন্তানকে বিষ খাইয়ে খুন করার পর নিজে আত্মঘাতী হলেন এক ভারতীয় নৌবাহিনীর নাবিক। চরম পদক্ষেপ করার আগে মা’কে শেষ মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ওই যুবক। এক রাতেই চারজনের এমন সলিলসমাধিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
চাঞ্চল্যকর নেভি নগর কাণ্ড
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার দক্ষিণ মুম্বইয়ের নেভি নগর এলাকার একটি বন্ধ ঘর থেকে এক পরিবারের চারজন সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত ৩০ বছর বয়সি যুবকের নাম পুরনমাল শম্ভুলাল মেহরা। তিনি পেশায় ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন নাবিক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘরের ছাদ থেকে পুরনমালের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বিছানা থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর ২৮ বছর বয়সি স্ত্রী এবং তাঁদের তিন বছরের পুত্রসন্তান ও মাত্র দু’মাসের শিশুকন্যার মৃতদেহ। ময়নাতদন্তের জন্য সমস্ত দেহগুলি হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মাকে শেষ মেসেজ ও রহস্য
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রথমে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে খুন করেন ওই যুবক। এরপর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। তবে এই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটানোর আগে মাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়েছিলেন পুরনমাল। বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘এসে আমাদের দেহ নিয়ে যাও…’।
তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, চরম পদক্ষেপ করার আগে নিজের ও স্ত্রীর মোবাইল ফোনের সমস্ত চ্যাট, মেসেজ এবং ডেটা চিরতরে ডিলিট করে দিয়েছিলেন ওই যুবক। ফোনের সমস্ত তথ্য লোপাট করার এই ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন পুরনমাল। মুম্বইয়ের একটি স্থানীয় হাসপাতালেও তাঁর চিকিৎসা চলছিল। পারিবারিক কলহ এবং আর্থিক অনটনের কারণে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ডুবে ছিলেন। চার বছর আগে ধুমধাম করে বিয়ে হলেও স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত। চার বছরের মাথায় সেই অশান্তি এবং অবসাদই যে এক ভয়ংকর ট্র্যাজেডির জন্ম দিল, তা মানতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।