চোখের নিমেষে বাইক-সহ জলের তোড়ে ভেসে গেলেন চালক! তারপর যা ঘটল…

টানা বর্ষণে বেহাল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার জনজীবন। একদিকে যখন প্রবল জলের স্রোতে বাইক-সহ ভেসে যাওয়ার মতো রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে, তেমনই নদী পার হতে গিয়ে ভেসে গিয়েছে ডাম্পার। ঝাড়খণ্ডের ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
পুরুলিয়ায় বাইক-সহ ভেসে গেলেন চালক তানা বৃষ্টির জেরে পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাতুড়ি থানার অন্তর্গত সুভাষ রোডের কোটালডি রেলগেটের কাছে জলের তীব্র স্রোতের মধ্যে বাইক নিয়ে পারাপার করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। প্রবল স্রোতের টানে বাইক-সহ ভেসে যান চালক। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তৎপরতা দেখিয়ে ওই বাইক চালককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জনসাধারণকে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে নদীগুলির ভয়ংকর রূপ এদিকে অবিরাম বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদী। জলের তলায় চলে গেছে মানকানালি সেতু। গতকাল রাতে সেই সেতু পারাপারের সময় জলের তোড়ে ভেসে যায় একটি ডাম্পার। বরাত জোরে চালক ও খালাসি প্রাণে বাঁচলেও এখনও পর্যন্ত ডাম্পারটির কোনো খোঁজ মেলেনি। দুর্ঘটনার জেরে বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে ১৪-১৫টি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি সমানভাবে উদ্বেগজনক ঝাড়গ্রামেও। জেলার একাধিক নদী ফুঁসছে এবং জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কজওয়ে ও একাধিক রাস্তা। তারফেনি নদীর জল উপচে প্লাবিত হয়েছে ঢোলভাঙা এলাকা। ডুলুং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় জলের তলায় চলে গেছে জামবনির চিল্কিগড় কজওয়ে। পাশাপাশি কাথুয়া খালের জল উপচে ফেকো-গোপীবল্লভপুর রাজ্য সড়কও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের গালুডি ব্যারাজ থেকে ৪,০৬০ কিউসেক জল ছাড়ার ফলেই নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগাতার নজরদারি চালানো হচ্ছে।