ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে সর্বস্বান্ত! চার মাসে ৭ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিল সাইবার অপরাধীরা

দেশজুড়ে সাইবার অপরাধের জাল কতটা বিস্তার লাভ করেছে, তার আরও এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এল মুম্বইয়ে। ধোবি তালাব এলাকার এক ৬৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মহিলাকে দীর্ঘদিন ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে প্রায় ৭ কোটি ২১ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ চার মাস ধরে চলা এই প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ে অবশেষে দক্ষিণ সাইবার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী মহিলা।
কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৬ সালের ৮ই এপ্রিল ওই বৃদ্ধা একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনকারীরা নিজেদের নাসিক থানার ডেটা প্রসেসিং ইউনিট এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র (NIA) কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। তাঁকে ভয় দেখানো হয় যে, তাঁর নামে থাকা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অর্থ পাচারের মতো গুরুতর মামলায় যুক্ত রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এই ভীতিপ্রদর্শন করেই তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হয়।
ধাপে ধাপে কোটি টাকা আত্মসাৎ:
গত ৮ই এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৩ই আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৭.২১ কোটি টাকা স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয় ওই মহিলাকে। বারবার এভাবে টাকা ট্রান্সফার করার পর তাঁর সন্দেহ হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই তিনি দক্ষিণ সাইবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ আসলে কী ও কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের প্রতারণায় স্ক্যামাররা পুলিশ, সিবিআই বা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক সেজে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের গৃহবন্দি বা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করার নাটক করে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
কোথায় অভিযোগ জানাবেন?
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো হুমকি বা ভীতিপ্রদর্শক ফোন পেলে ভয় না পেয়ে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া উচিত। আপনি যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তবে:
নিকটবর্তী স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করুন।
ভারতের জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করে দ্রুত আপনার অভিযোগ নথিভুক্ত করুন।
এছাড়াও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত পোর্টাল বা অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে (@cyberdost) যোগাযোগ করে সাহায্য নিতে পারেন।
সচেতনতাই এই ধরনের প্রতারণার একমাত্র প্রতিকার।