বিজয় শেখর শর্মার মেগা ডিল! প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির খবরে বড় ধাক্কা খেল পেটিএম

প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ শেয়ারের একটি বিশাল ব্লক ডিলের জেরে মঙ্গলবার বড় ধাক্কা খেল ফিনটেক মেজর পেটিএম-এর মূল সংস্থা ওয়ান৯৭ কমিউনিকেশনস (One97 Communications)। এই বড়সড় শেয়ার বিক্রির জেরে এক ঝটকায় কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। বিক্রিত এই শেয়ারগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২,৯৪৯ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই পুরো লেনদেনের নেপথ্যে রয়েছে পেটিএম-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিজয় শেখর শর্মার সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক সংস্থা ‘রেসিলিয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিভি’।

২,৯৪৯ কোটি টাকার ব্লক চুক্তি ও অংশীদারিত্ব বিক্রি
নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক সংস্থা রেসিলিয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিভি পেটিএম-এর প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল, যা কোম্পানিটিতে তাদের মোট বর্তমান অংশীদারিত্বের প্রায় ৩ শতাংশ। শেয়ার প্রতি ১,৫৩৫.১০ টাকা সর্বনিম্ন ফ্লোর প্রাইসে (Floor Price) এই চুক্তির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২,৯৪৯ কোটি টাকা।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত আরও ১ কোটি ২৭ লক্ষ শেয়ার বিক্রির একটি বিকল্পও রাখা হয়েছে। যদি সেই বিকল্পটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হয়, তবে পেটিএম-এ মোট ৩ কোটি ১৯ লক্ষ শেয়ার (প্রায় ৪.৯৮% অংশীদারিত্ব) বিক্রি হয়ে যেতে পারে। এমনটা ঘটলে পুরো চুক্তিটির মোট আর্থিক পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪,৮৯৫ কোটি টাকা।

কোন সংস্থা বিক্রি করছে এই শেয়ার?
রেসিলিয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিভি হলো পেটিএম প্রধান বিজয় শেখর শর্মার শতভাগ মালিকানাধীন একটি বিদেশি সংস্থা। পেটিএম-এর এক্সচেঞ্জ ফাইলিং অনুযায়ী, রেসিলিয়েন্ট পূর্বে অ্যান্টফিনকে (Antfin) ইস্যু করা রূপান্তরযোগ্য ডিবেঞ্চারের বিনিময়ে অ্যান্টফিনের কাছ থেকে প্রায় ১০.২০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছিল। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, রেসিলিয়েন্ট শেয়ারগুলোর মালিকানা ও ভোটাধিকার পেলেও অ্যান্টফিন সেগুলির অর্থনৈতিক মূল্য ধরে রেখেছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, একাই বিজয় শেখর শর্মা ব্যক্তিগতভাবে পেটিএম-এ ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক।

পেটিএমের ওপর এর কী প্রভাব পড়ল?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সম্পূর্ণ ‘সেকেন্ডারি ডিল’ (Secondary Deal)। অর্থাৎ, শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ সরাসরি বিক্রেতা শেয়ারহোল্ডারের পকেটে যাবে, কোম্পানির ঘরে এক টাকাও ঢুকবে না। এই পুরো ডিলটির প্লেসমেন্ট এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে গোল্ডম্যান স্যাক্স ইন্ডিয়া সিকিউরিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড। ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের স্ক্রিন-ভিত্তিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই এই শেয়ারগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিক্রেতা পক্ষ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাজারে আর কোনো নতুন শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ডিলের জন্য নির্ধারিত ফ্লোর প্রাইস (₹১,৫৩৫.১০) পেটিএমের পূর্ববর্তী ক্লোজিং প্রাইস (₹১,৫৮০.২০)-এর তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম। মঙ্গলবার লেনদেনের সময় পেটিএমের শেয়ারের দাম নেমে আসে প্রায় ১,৫৫৭ টাকার কাছাকাছি।

এক নজরে পেটিএম শেয়ারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
গত এক সপ্তাহ ধরে পেটিএমের শেয়ারে সামান্য (প্রায় ১%) পতন দেখা গেলেও, গত এক মাসে এর গ্রাফ বেশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং দাম বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশেরও বেশি। ২০২৬ সালের শুরু থেকে বিচার করলে এখনও পর্যন্ত শেয়ারটির দাম ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর অর্থাৎ ৯৩০.৬০ টাকায় নেমে আসার পর, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ লাফ দিয়ে গত সপ্তাহেই ১,৬৫৭.৬০ টাকার ৫২ সপ্তাহের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল শেয়ারটি।

এক বছরের হিসেবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং তিন বছরে ৮৪ শতাংশ রিটার্ন দিলেও, এই স্টকটি এখনও এর ২০২১ সালের আইপিও (IPO)-র ইস্যু মূল্যের নিচে রয়েছে। বর্তমানে ১.০১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বাজার মূলধন নিয়ে দেশের ফিনটেক বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে এই সংস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *