হিরো স্প্লেন্ডরের রমরমা নাকি বুলেট-ঝড়? জুলাই মাসে বাইক বিক্রিতে হু হু করে বাড়ল বিক্রি, দেখুন সেরা ১০-এর তালিকা!

চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতের টু-হুইলার বাজারে দারুণ ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এই মাসে দেশের মোটরসাইকেল বিক্রি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। তথ্যানুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০টি সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেল সম্মিলিতভাবে মোট ৮,৭০,৮২৯ ইউনিট বিক্রি করেছে। যেখানে গত বছর অর্থাৎ জুলাই ২০২৫-এ এই ১০টি বাইকের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭,২২,১০৩ ইউনিট। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১,৪৮,৭২৬ ইউনিট, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ২০.৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
শীর্ষে হিরো স্প্লেন্ডর, দুইয়ে হোন্ডা শাইন
অটোমোবাইল ডিলারদের সংগঠন ফাদা (FADA)-র তথ্য অনুযায়ী, বরাবরের মতো জুলাই মাসেও দেশের বাজারে সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেলের মুকুট পরেছে হিরো স্প্লেন্ডর (Hero Splendor)। এ মাসে এর ৩,৩৫,৩৪৬ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে যার পরিমাণ ছিল ২,৪৬,৭১৫ ইউনিট। অর্থাৎ, এক বছরে এর বিক্রি ৮৮,৬৩১ ইউনিট বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ৩৫.৯২ শতাংশের বিশাল প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হোন্ডা শাইন (Honda Shine)। জুলাই মাসে এর ১,৯১,৯৫০ ইউনিট বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ১,৫৯,৬৫৮ ইউনিট। ফলে শাইনের বিক্রি ৩২,২৯২ ইউনিট বেড়ে প্রায় ২০.২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
পালসারের পতন হলেও চমক দেখাল টিভিএস অ্যাপাচি
বাজাজ পালসার পরিবার (Bajaj Pulsar) ৬৬,১৫৬ ইউনিট বিক্রি করে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। তবে গত বছরের ৭৯,৮১৭ ইউনিটের তুলনায় এর বিক্রি প্রায় ১৭.১২ শতাংশ কমেছে। যদিও বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাজাজ বর্তমানে তাদের পালসার লাইনআপ আপডেট করছে, যার ফলে আগামী মাসগুলোতে বিক্রি ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, জুলাই মাসে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে টিভিএস অ্যাপাচি (TVS Apache)। এই বাইকের বিক্রি ৩৭,৫৬৬ ইউনিট থেকে একলাফে বেড়ে ৫৯,৪০৪ ইউনিটে পৌঁছেছে। এটি প্রায় ৫৮.১৩ শতাংশের বিশাল বৃদ্ধি এবং এর জেরে এটি চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।
এইচএফ ডিলাক্সের পতন ও এনফিল্ডের জয়জয়কার
হিরো এইচএফ ডিলাক্স (Hero HF Deluxe) ৫৫,৯৭৮ ইউনিট বিক্রি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। তবে গত বছরের ৭১,৪৭৭ ইউনিটের তুলনায় এর বিক্রি প্রায় ২১.৬৮ শতাংশ কমেছে, যা শীর্ষ দশের মধ্যে অন্যতম বড় শতাংশিক পতন।
এর ঠিক পরেই রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ড ক্লাসিক ৩৫০ (Royal Enfield Classic 350)। এই মাসে এর ৩৯,১৯৭ ইউনিট বিক্রি হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২৬,৫১৬ ইউনিট। অর্থাৎ, ক্লাসিক ৩৫০-এর বিক্রি প্রায় ৪৭.৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরে তালিকায় রয়েছে হোন্ডা সিবি ইউনিকর্ন (৩৫,০০৭ ইউনিট) এবং টিভিএস রাইডার (৩৪,১২৫ ইউনিট)। বিশেষ করে রাইডার বাইকের বিক্রিতে প্রায় ৩৯.২২ শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সবচেয়ে বেশি শক্তি দেখাল বুলেট ৩৫০
অন্যদিকে, বাজাজ প্লাটিনার বিক্রি কিছুটা কমে ২৯,৪২৪ ইউনিট থেকে ২৭,৪২১ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। তবে তালিকার সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট ৩৫০ (Royal Enfield Bullet 350)। এটিই ছিল এই তালিকার সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়া বাইক। গত বছরের ১৫,৮৪৭ ইউনিট থেকে বেড়ে এর বিক্রি ২৬,২৪৫ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৬৫.৬১ শতাংশের এক অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি। সবমিলিয়ে জুলাই মাসে রয়্যাল এনফিল্ডের ক্লাসিক ৩৫০ এবং বুলেট ৩৫০—উভয় মডেলই অত্যন্ত শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে।
সামগ্রিক মোটরসাইকেল বিক্রি ও রপ্তানিতে বড় লাফ
শুধু শীর্ষ দশটি বাইকই নয়, সামগ্রিক বাজারেই মোটরসাইকেলের বিক্রি দারুণভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে মোট ১০,৭৪,৭৯৬ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৮,৯০,১০৭ ইউনিটের তুলনায় প্রায় ২০.৭৫ শতাংশ বেশি।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাইকের রপ্তানি প্রায় ২৯.৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৮০,০১৩ ইউনিটে। অভ্যন্তরীণ বিক্রি এবং রপ্তানি—দুটি দিক মিলিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মোট মোটরসাইকেল বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৫,৫৪,৮০৯ ইউনিট, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩.৪১ শতাংশ বেশি। সামগ্রিক এই চিত্র পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে ভারতীয় টু-হুইলার বাজার এখন দ্রুতগতির পুনরুজ্জীবনের পথে রয়েছে।