বর্ষা বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেল? আকস্মিক এই বদলেই কি ভ্যাপসা গরম থেকে মিলবে মুক্তি?

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের জেরে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে যখন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির দুর্যোগ চলছে, ঠিক তখনই দেশের আবহাওয়া নিয়ে এল এক বড় আপডেট। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষার ঝোড়ো ব্যাটিং চলার পর, এ বছরের মতো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় পর্ব শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিল ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD)। আবহাওয়ার এই আচমকা পটপরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা।
সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেরল দিয়ে শুরু হওয়া বর্ষার বিদায় পর্ব অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে গোটা দেশেই সম্পূর্ণ হয়। তবে এ বার নির্ধারিত সময়ের আগেই তার আঁচ মিলতে শুরু করেছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষায় সামগ্রিক বৃষ্টিপাত এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম রয়েছে। দেশের সর্বত্র বৃষ্টির সমবণ্টন না থাকায় কোথাও হয়েছে অতিভারী বৃষ্টি, আবার কোথাও চিত্রটা সম্পূর্ণ শুখা।
ভারতের বৃষ্টির মিশ্র চিত্র
রাজ্যওয়াড়ি বৃষ্টিপাতের মানচিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের একটি বড় অংশে বৃষ্টিপাত প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে, ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও বৃষ্টির ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ুর একটি তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে শুষ্ক উত্তর-পশ্চিমী বাতাস ঢুকতে শুরু করায় এতদিন প্রভাব বিস্তার করা আর্দ্রতাবাহী মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।
এর ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর, রাজস্থান ও সংলগ্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমে আসবে এবং বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস পাবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি মেলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মেঘ তৈরির প্রবণতাও কমবে।
কৃষিক্ষেত্র নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
স্যাটেলাইট চিত্র ও আবহাওয়ার মডেলগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে হিমালয়ের পাদদেশের দিকে সরে যাচ্ছে। তবে এবারের বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতি বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে কৃষিক্ষেত্রকে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফসলের স্বাস্থ্য এবং মাটির আর্দ্রতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে তা স্থলভাগে প্রবেশ না করলে বা মৌসুমি অক্ষরেখা ফের দক্ষিণ দিকে না সরলে বৃষ্টির প্রবণতা কমই থাকবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এখনই পাকাপাকিভাবে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা তৈরি হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হওয়া এবং তা দেশের মধ্যভাগে জলীয়বাষ্প টেনে আনার ক্ষমতার ওপর। আপাতত এটুকুই পরিষ্কার যে, বর্ষা ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে এবং দেশের একটি বড় অংশে শুষ্ক হাওয়া নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছে।