সাতসকালে ভয়াবহ ধস! বিপজ্জনক বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত বৃদ্ধা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১৯

সোমবারের প্রবল বৃষ্টির রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সাতসকালে বড়সড় বিপর্যয় শহরে। জোড়াবাগানের ব্রজদুলাল স্ট্রিটে ভেঙে পড়ল একটি ২০০ বছরের পুরনো পরিত্যক্ত তিনতলা বাড়ি। এই ঘটনায় দেওয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন উর্মিলা সাউ নামের এক বৃদ্ধা। ঘটনার আকস্মিকতায় কার্যত কেঁপে উঠেছে গোটা এলাকা।

কী ঘটেছিল মঙ্গলবার ভোররাতে?
মঙ্গলবার ভোরে আচমকাই বাড়িটির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই সময় বাড়ির ভেতরে এবং বাইরে মিলিয়ে প্রায় ২০ জন সদস্য ছিলেন। মৃতার স্বামী জানিয়েছেন, বাড়ির ভেতর থেকে বিকট শব্দ শুনে উর্মিলা সাউ (৬০) বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন, ঠিক তখনই বাড়ির দেওয়াল তাঁর ওপর ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আটকে থাকা অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিপজ্জনক জেনেও কেন খালি হয়নি বাড়ি?
৩১ নম্বর ব্রজদুলাল স্ট্রিটের এই বাড়িটি যে বিপজ্জনক, তা কলকাতা পুরসভার অজানা ছিল না। ছয় মাস আগেই বাড়িটির পিছনের অংশের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছিল। এরপর থেকে বাড়ির একাংশ কার্যত বিপজ্জনকভাবে ঝুলে ছিল। পুরসভার তরফে বারবার বাড়িটি বিপজ্জনক এবং পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও, বাস্তবে তা খালি করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে রয়েছে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং বিবাদ। অভিযোগ, আইনি জটিলতার কারণেই বিপজ্জনক এই বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া যায়নি, যার মর্মান্তিক পরিণতি দেখল তিলোত্তমা।

উঠছে প্রশাসনিক গাফিলতি ও রাজনৈতিক উত্তাপ
এদিনের ঘটনা ফের একবার শহরের বিপজ্জনক বাড়িগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ছয় মাস আগে বাড়িটি ধসে পড়ার পরও কেন প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বাড়িটি খালি করল না? সোমবার রাত থেকেই যখন বাড়িটির অংশবিশেষ খসে পড়ছিল, তখন অভিযোগ জানানোর পরেও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?

এদিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরব হন বিজেপি নেত্রী পূর্ণিমা কোঠারি। তিনি সরাসরি এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ইলোরা সাহার বিরুদ্ধে নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলার চিন্তা-ভাবনা করছে পুরসভা, যাতে আশেপাশের বাসিন্দারা সুরক্ষিত থাকেন। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়ির আশেপাশের বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

পাথুরিয়াঘাটার মতো এলাকায় পুরনো বাড়ি ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। পুরসভা আইন তৈরি করলেও, তার বাস্তবায়ন এবং প্রাণহানি ঠেকাতে সময়মতো বিপজ্জনক বাড়ি খালি করাটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল হিসেবে পাথুরিয়াঘাটা, জোড়াবাগান এলাকার উল্লেখ রয়েছে, যা একটি জনবহুল ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের সঠিক মানচিত্র ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ক্লিক করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *