স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ নিমেষে বিষাদ! ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৬৮, গৃহহীন হাজার হাজার

স্বাধীনতা দিবসের খুশির আমেজ নিমেষে বদলে গেল গভীর শোকে। উৎসবের ঠিক আগে ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ এবং ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।

উৎপত্তিস্থল ও আফটারশকের আতঙ্ক: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-র তথ্য অনুযায়ী, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের খুব কাছাকাছি, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীরে। গত শনিবার প্রথম বড় ধাক্কা অনুভূত হওয়ার পর থেকেই এলাকাটি একের পর এক আফটারশকের কাঁপুনিতে কেঁপে ওঠে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৬০০টি ছোট-বড় পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

বিপর্যয়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পূর্ব নুসা টেঙ্গারা, পশ্চিম নুসা টেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসির কিছু অংশে প্রাথমিকভাব সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নদী ও সমুদ্রের তীর থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

তছনছ জনজীবন ও বাড়ি ফেরার আকুতি: ভূমিকম্পের জেরে ফ্লোরেস দ্বীপ সহ আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ৫০০টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক স্থানে ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১২,৮০০ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন এবং তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

এএফপি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভূমিকম্পকবলিত এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা নিজের আতঙ্কের কথা ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আমাদের বাড়িগুলো এখন আর বসবাসের মতো অবস্থায় নেই। ঘরের দেওয়াল জুড়ে বড় বড় ফাটল ধরেছে, বহু বাড়ি ধসে পড়েছে। তাই আমরা ঘরের ভেতরে থাকতে পারছি না।’’ খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন সর্বস্বহারা মানুষেরা। কেবল প্রয়োজনীয় কিছু কাপড়, খাবার জল ও বালিশ আনতে সামান্য সময়ের জন্য ভেঙে পড়া বাড়িতে গিয়ে ফের তাঁবুতে ফিরে আসতে হচ্ছে তাঁদের।

প্রাক-স্বাধীনতা উদযাপনের আনন্দের বদলে এখন স্বজনহারা মানুষের কান্না আর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার লড়াই চলছে ইন্দোনেশিয়ার ওই অঞ্চলে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকাজে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণ দলগুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *