অমিত মালব্যের বিদায়! বিজেপির আইটি সেলের নয়া কাণ্ডারি কে এই দীপক ম্হাসকে?

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আইটি সেল মানেই এতকাল সাধারণের মনে ভেসে উঠত অমিত মালব্যের নাম। টানা ১১ বছর সেই গুরুদায়িত্ব সামলানোর পর এবার সেই চেয়ারে এল এক বড়সড় পরিবর্তন। অমিত মালব্যের উত্তরসূরি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় আইটি সেলের দায়িত্ব বুঝে নিলেন দীপক ম্হাসকে (Deepak Mhaskey)। জাতীয় রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত নাম না হলেও, এই নিয়োগকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে চর্চা।
কেন হঠাৎ এই পরিবর্তন? বর্তমান সময়ে রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের (GenZ) সাম্প্রতিকতম রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা কোনো একটি ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টের ভাইরাল হওয়ার ঘটনা বুঝিয়ে দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ভোটের ময়দানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। ডিজিটাল স্পেসের গুরুত্ব যে উত্তরোত্তর বাড়ছে, তা বিলক্ষণ বুঝেছে গেরুয়া শিবির। আর সেই ডিজিটাল লড়াইয়ে নতুন উদ্যম আনতেই দীপকের ওপর বাজি ধরল বিজেপির হাই কমান্ড।
কে এই দীপক ম্হাসকে? ছত্তীসগঢ়ের এই নেতার নিয়োগ এক প্রকার ‘আউট অফ বক্স’ সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছত্তীসগঢ়ের রাজ্য রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হলেও, সর্বভারতীয় স্তরে তিনি অনেকটাই ‘ডার্ক হর্স’।
তবে তাঁর কর্মজীবন যতটা বৈচিত্র্যময়, তা অনেকেরই নজর কাড়বে। পেশাগত জীবনে তিনি রসায়ন বা কেমিস্ট্রির অধ্যাপক ছিলেন। পাশাপাশি কৃষি ও উদ্যানপালন খাতের সাথেও তাঁর গভীর সংযোগ রয়েছে। নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণ বা ডেটা অ্যানালাইসিস, সরকারি সংস্থার বোর্ডে কাজ করা থেকে শুরু করে ছত্তীসগঢ় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন—দীপকের ঝুলিতে রয়েছে অভিজ্ঞতার এক বিশাল ভাণ্ডার।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছত্তীসগঢ়ে বিজেপির সাংগঠনিক পরিকাঠামো মজবুত করার কাজ করে আসছেন। এখন দেখার, অধ্যাপনা আর তথ্য বিশ্লেষণের এই মিশেল তিনি জাতীয় স্তরের ডিজিটাল রাজনীতিতে কতটা কার্যকর করে তুলতে পারেন। অমিত মালব্যের দীর্ঘ সময়ের উত্তরাধিকার তিনি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।