গ্যাসের অভাবে অচল কারখানা, বাংলাদেশ কি তবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে?

টানা ২০ দিনের গ্যাস সংকটে কার্যত অচল বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিল, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় শিল্পমালিকদের কপালে এখন গভীর চিন্তার ভাঁজ। যদিও গতকাল দুপুর থেকে কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ সামান্য ফিরতে শুরু করেছে, তবে গাজীপুরের শ্রীপুর বা ময়মনসিংহের ভালুকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই নাজুক।
শিল্পমালিকরা একে ‘নজিরবিহীন’ সংকট হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় মোটা অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। বাড়তি উৎপাদন খরচ এবং ভবিষ্যতের নতুন রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কায় এখন দিশেহারা এই খাতের উদ্যোক্তারা।
সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে না। গতকাল সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই জ্বালানি সংকটের রাতারাতি কোনো সমাধান সম্ভব নয়। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, যার কোনো দ্রুত বা সহজ সমাধান নেই। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হাত বাড়াতে হবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের দিকে। দ্রুত নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে এই সংকটের কালো ছায়া থেকে শিল্পখাতকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।