আকাশের ওপর দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা! ভারতের এই ৫টি গ্লাস ব্রিজ কি আপনার সাহসের পরীক্ষা নিতে তৈরি?

নদী, ঝরনা, পাহাড় কিংবা ঘন সবুজ বন—ভ্রমণপিপাসুরা হয়তো এগুলোর সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু ভারতের আকাশপথের এই রোমাঞ্চকর যাত্রাপথগুলোর কথা খুব কম মানুষই জানেন। আমরা বলছি ভারতের ‘স্কাইওয়াক’ বা গ্লাস ব্রিজগুলোর কথা। এখানকার দৃশ্য যেমন স্বর্গের মতো মনোরম, তেমনই এর অভিজ্ঞতা নিতে প্রয়োজন অদম্য সাহস। মাটির থেকে শত ফুট ওপরে স্বচ্ছ কাঁচের ওপর দাঁড়িয়ে নিচের গভীরতা দেখার অভিজ্ঞতা যে কাউকেই শিহরিত করবে। আপনি যদি রোমাঞ্চপ্রিয় হন, তবে ভারতের এই জায়গাগুলো অবশ্যই আপনার লিস্টে থাকা উচিত।

সিকিম: পেলিং স্কাইওয়াক
উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম আকর্ষণ সিকিমের পেলিং স্কাইওয়াক। এটি ভারতের প্রথম গ্লাস ব্রিজ হিসেবে পরিচিত। এই সেতুর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এখান থেকে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘাকে একেবারে হাতের মুঠোয় পাওয়ার মতো অনুভব করা যায়। মেঘের মাঝে কাঁচের ওপর দিয়ে হাঁটার এই অভিজ্ঞতা আপনার ভ্রমণ তালিকায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে।

বিহার: রাজগির গ্লাস ব্রিজ
চিনের হ্যাংঝু ব্রিজের আদলে বিহারের নালন্দা জেলায় তৈরি হয়েছে রাজগির গ্লাস ব্রিজ। রত্নগিরি পাহাড়ের কোলে প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই সেতুটি। এখান থেকে দর্শনার্থীরা ‘নেচার সাফারি’ এবং চারপাশের ঘন সবুজ বনের এক অপূর্ব প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারেন।

তামিলনাড়ু: কন্যাকুমারী গ্লাস ব্রিজ
সবুজ বন বা পাহাড়ের বাইরে অন্যরকম কিছু খুঁজছেন? তাহলে আপনার গন্তব্য হোক তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী। এটিই ভারতের প্রথম সমুদ্রের ওপর নির্মিত গ্লাস ব্রিজ। এই সেতুটি ১৩৩ ফুট উঁচু সন্ত তিরুবল্লুবরের মূর্তিকে বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সমুদ্রের বিশাল জলরাশির ওপর কাঁচের সেতুতে হাঁটার অভিজ্ঞতা সত্যিই এক বিরল প্রাপ্তি।

কেরালা: ওয়ায়ানাদ গ্লাস ব্রিজ
কেরালার থোল্লায়িরাম কান্দি এলাকায় অবস্থিত এই গ্লাস ব্রিজটি এক ব্যক্তিগত রিসোর্টের অংশ। মাটি থেকে প্রায় ১০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই সেতুটি ইতালি থেকে আমদানিকৃত মজবুত ফাইবারগ্লাস দিয়ে তৈরি। সবুজে ঘেরা পাহাড়ের বুক চিরে এই স্কাইওয়াক আপনাকে এক শান্ত ও সুন্দর অনুভূতির স্বাদ দেবে।

মহারাষ্ট্র: নাপনে গ্লাস স্কাইওয়াক
মহারাষ্ট্রের সিন্ধুদুর্গ জেলায় অবস্থিত নাপনে জলপ্রপাতের ওপর নির্মিত হয়েছে এই স্কাইওয়াকটি। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই ব্রিজের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই সেতুটিতে স্থানীয় উদ্ভিদ, প্রাণী এবং রঙিন প্রজাপতির চিত্রকর্ম রাখা হয়েছে, যা পর্যটকদের মন কাড়বেই।

আপনি যদি নিত্যনতুন অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজ করেন, তবে ভারতের এই স্কাইওয়াকগুলোতে অন্তত একবার হলেও পা রাখা উচিত। তবে সতর্ক থাকবেন, কারণ এই উচ্চতায় দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকালে সবচেয়ে সাহসী মানুষেরও গা শিউরে উঠতে পারে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *