গাঁজা-কোকেন বিতর্ক তুঙ্গে! ৩০০ জনেরও বেশি পাইলটের ডোপ টেস্ট হতেই সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মাঝআকাশে বড়সড় বিপত্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চরম বিতর্ক তৈরি হল। পাইলটদের ড্রাগ পরীক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়াকড়ি শুরু করেছে বিমানসংস্থা। আর সেই ব্যাপক কড়াকড়ির মাঝেই এ বার আরও দু’জন পাইলটের ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর।

প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের সময় তাঁদের নমুনায় নিষিদ্ধ বা সাইকোঅ্যাকটিভ কোনো পদার্থের উপস্থিতির সম্ভাবনা চিহ্নিত হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি, ফলে এই মুহূর্তে তাঁদের সরাসরি ‘ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ’ বলা যাচ্ছে না। তবে সতর্কমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই দু’জন পাইলটকেই রোস্টার থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৩০০-র বেশি পাইলটের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন

ফুকেট-দিল্লিগামী AI2379 বিমানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাইলটের ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সংস্থায় কর্মরত সমস্ত পাইলটের জন্য বাধ্যতামূলক ড্রাগ স্ক্রিনিং বা ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় ৫,০০০ পাইলটকে এই বিশেষ পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। গত ১৩ অগাস্ট থেকে এই মেগা পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৩০০-র বেশি পাইলটের প্রাথমিক স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত নমুনার চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।

কেন শুরু হলো এই ব্যাপক ড্রাগ টেস্ট?

গত ৪ অগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানটি মাঝআকাশে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে ফেলেছিল। Airbus A320neo বিমানটির তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমই সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিকল হয়ে পড়েছিল বলে Airbus-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে আসে। ওই মর্মান্তিক ঝাঁকুনিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ২৪ জন আহত হন।

এই ঘটনার পরেই বিমানের মুখ্য পাইলটের ড্রাগ টেস্ট করানো হয়, এবং প্রথম পরীক্ষার পর তাঁর নমুনায় মারিজুয়ানার উপস্থিতি পজিটিভ এসেছে বলে খবর ছড়ায়। এর পরই নড়েচড়ে বসে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এবং সমস্ত পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা হয়।

৪ সেকেন্ডের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও কারিগরি ত্রুটি

অন্যদিকে, বিমানের টেকনিক্যাল দিকটিও সমানভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। Airbus-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাঝআকাশে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য বিমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল সারফেস—যেমন এলিভেটর (elevator) এবং এইলেরন (aileron)—কার্যত কাজ করেনি। একই যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে স্পয়লারস (spoilers)-ও অকেজো হয়ে গিয়েছিল।

এই সমস্ত ঘটনার পর পাইলটদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন কড়া ব্যবস্থার অধীনে পাইলটরা কোনো ধরনের নিষিদ্ধ মাদক বা ওষুধ সেবন করছেন কি না, তা প্রশিক্ষণ চলাকালীন, ফ্লাইট পরিচালনার পর এবং নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। নতুন করে যে দু’জন পাইলটের প্রাথমিক রিপোর্ট ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে, তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ওপরেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *