আমফানের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পর্যটন দফতরে বিরাট ধস! সিএজি রিপোর্টে খোদ মমতার সরকারের মেগা গাফিলতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আমফানের ধ্বংসলীলার ক্ষতচিহ্ন পেরিয়ে বছর ঘুরলেও রাজ্যের উপকূলীয় পর্যটনের চেহারাটা যে কতটা করুণ, এবার তার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি (CAG)-এর রিপোর্ট। পর্যটনের প্রসারে সরকারের মেগা কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ও প্রচার সত্ত্বেও সমুদ্র সৈকতমুখী পর্যটকদের সংখ্যায় এক ধাক্কায় প্রায় ৩৭ শতাংশ ধস নেমেছে। রাজ্যজুড়ে যেখানে সামগ্রিক পর্যটনের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক সেখানেই উপকূলীয় পর্যটনে এই মারাত্মক খরা কেন— তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জল্পনা।

পর্যটক বাড়লেও তলানিতে উপকূলীয় পর্যটনের গ্রাফ

সিএজি-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অতিমারী ও আমফানের বছর ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গে মোট পর্যটক এসেছিলেন ২ কোটি ৯৪ লক্ষ (২৯৪.৪ লক্ষ)। যার মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন উপকূলীয় বা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে দেখতে গিয়েছিলেন প্রায় ৬৭ লক্ষ ২০ হাজার পর্যটক, যা মোট পর্যটকদের প্রায় ২২.৮২ শতাংশ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা অনেকটাই বদলেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যে মোট পর্যটকের সংখ্যা একলাফে বহু গুণে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭৬ লক্ষ (১,৮৭৬ লক্ষ)। সেই তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটক সংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৮৫ লক্ষ (২৬৮.৫ লক্ষ)-এ। অর্থাৎ, সার্বিক পর্যটনের জোয়ার এলেও উপকূলীয় অঞ্চলের অংশীদারি ২২.৮২ শতাংশ থেকে হু হু করে কমে নেমে এসেছে মাত্র ১৪.৩১ শতাংশে। শতকরা হিসেবে যা প্রায় ৮.৫১ শতাংশ পয়েন্ট বা প্রায় ৩৭ শতাংশ হ্রাস!

বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ দফতর?

এই রিপোর্টের সবচেয়ে উদ্বেগের দিকটি হলো বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত। ২০২০ সালের পর থেকে রাজ্যের উপকূলীয় এলাকাগুলিতে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে মাত্র ৩ হাজার (০.০৩ লক্ষ) বিদেশি পর্যটক পা রেখেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি পর্যটকদের এই খরা কেবল রাজ্যকে আকর্ষণীয় বৈদেশিক মুদ্রা (Foreign Exchange) অর্জনের সুযোগ থেকেই বঞ্চিত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রেও বাংলার উপকূলীয় সৌন্দর্যের প্রচারের বেহাল দশাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

একের পর এক সরকারি প্রকল্পে গাফিলতি, উপকূলের পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবেই যে পর্যটকরা ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, সিএজি রিপোর্টে সেই কড়া সত্যই তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার, এই বিস্ফোরক রিপোর্টের পর রাজ্য পর্যটন দফতর ঘুম ভাঙিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *