টাকা পাওয়ার আগে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরাট নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, কাদের নাম বাদ গেল তালিকা থেকে?

রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য অত্যন্ত চর্চিত প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩,০০০ টাকা পাঠানো শুরু হবে। তবে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক কোন কোন নিয়ম মানতে হবে এবং যাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, তাঁদের কী করণীয়—তা নিয়ে বিস্তারিত বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আবেদনপত্র যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত ও যোগ্য মহিলারা যাতে সরাসরি এই সুবিধা পান, তার জন্য স্বচ্ছ তালিকা তৈরির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না?
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সমস্ত আবেদনকারীই যে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এমন নয়। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও উপার্জনের সীমার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
-
আয়ের সীমা: যে সকল মহিলা নিজে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাঁদের প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্পের বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এই প্রকল্প মূলত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি স্বশক্তিকরণের উদ্দেশ্যে তৈরি।
-
সরকারি চাকরি: কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থায় কর্মরত মহিলারা এই ৩,০০০ টাকা পাবেন না। এছাড়া সরকার বা সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাও এই ভাতার আওতার বাইরে থাকবেন।
-
অন্যান্য কারণ: তালিকায় যাঁদের নথিপত্রে ত্রুটি রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট বয়স ও যোগ্যতার মাপকাঠি মেলেনি, তাঁদের নামও যাচাই প্রক্রিয়ার সময় বাদ দেওয়া হচ্ছে।
যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
যাঁরা প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং কোনো প্রকৃত উপভোক্তা যাতে বঞ্চিত না হন, তার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ বা সংশোধনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, যাঁদের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে, তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন বা নির্দিষ্ট পোর্টালের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপডেট করে নিজেদের দাবি পেশ করতে পারবেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারের কান না দিয়ে শুধুমাত্র দাপ্তরিক নির্দেশিকা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে সফল উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হওয়ার পর এই প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।