‘জন গণ মন’ বাদ দিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ হোক জাতীয় সংগীত! স্বাধীনতা দিবসের আবহেই বিস্ফোরক মন্তব্য মোদীর ‘শক্তিমান’-এর

স্বাধীনতা দিবসের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় সংগীত বদল নিয়ে শুরু হলো এক নতুন বিতর্ক। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মুকেশ খান্না এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাঁর সাফ দাবি, ‘জন গণ মন’-এর পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম্’-কেই ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেওয়া উচিত।

ঠিক কী বলেছেন মুকেশ খান্না?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দাবি করেছেন, তিনি প্রথমবার নয়, এর আগেও এই একই দাবি তুলেছিলেন। তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি ভারতের মাটি, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং জাতীয় চেতনার সঙ্গে আরও অনেক বেশি গভীরভাবে যুক্ত।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘জন গণ মন’-এর ইতিহাস নিয়ে তাঁর করা একটি দাবি ঘিরে। অভিনেতার অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই গানটি নাকি মূলত ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রশস্তিগান হিসেবে রচিত হয়েছিল এবং এর কিছু শব্দ ভারতের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে না। এর বিপরীতে তিনি কিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘বন্দে মাতরম্’-এর প্রসঙ্গ টেনে জানান, এই গানটি মানুষের মনে দেশাত্মবোধকে সবচেয়ে বেশি জাগ্রত করে। এমনকি তিনি নিজে প্রায় সাত মিনিটের একটি ‘বন্দে মাতরম্’ গান রেকর্ড করেছেন, যা শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসার কথা রয়েছে।

ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক সত্য কী?

মুকেশ খান্নার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী, ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সংগীত এবং ‘বন্দে মাতরম্’ হলো জাতীয় গান। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জন গণ মন’-কে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করেছিল। দুটি গানেরই নিজস্ব রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক মর্যাদা রয়েছে, যার সাংবিধানিক পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা।

সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম্’-এর আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা বৃদ্ধি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চললেও, জাতীয় সংগীত বদল সংক্রান্ত কোনো সরকারি বা দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্র সরকার। ফলে মুকেশ খান্নার এই মন্তব্য তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত মতামত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *