বন্দুকবাজরা শেষ, এবার নতুন বিপদ! লালকেল্লা থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে কী বললেন মোদী?

ভারতের মাটি থেকে সশস্ত্র নকশালবাদ ও মাওবাদী হিংসার সম্পূর্ণ অবসান ঘটেছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে বন্দুকধারী জঙ্গলের লড়াই শেষ হলেও দেশের অভ্যন্তরে থাকা অদৃশ্য এক বিপদ নিয়ে দেশবাসীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। শনিবার দিল্লির লালকেল্লা থেকে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দিয়েছেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই দেশের দীর্ঘদিনের এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ দশক ধরে বন্দুকের নলের মুখে দেশের একটি বড় অংশকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংবিধানকে অস্বীকার করে চলা সেই সশস্ত্র বিদ্রোহ আজ কার্যত নির্মূলের পথে। একদা মাওবাদী অধ্যুষিত সেই সমস্ত এলাকায় আজ বারুদের গন্ধের পরিবর্তে উন্নয়নের সুবাতাস বইছে বলেও জানান তিনি।
‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের নিয়ে সতর্কবার্তা
তবে সশস্ত্র দমনের পর এখনই আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সতর্কবাণী, বন্দুকধারী উগ্রপন্থীরা কোণঠাসা হলেও ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক মাওবাদী মানসিকতার মানুষেরা এখনও বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে। অতীতে এই ধরনের মানসিকতার মানুষেরা সরকারি নীতি নির্ধারণ বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে থেকে কীভাবে সিস্টেমকে প্রভাবিত করত, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
সরাসরি কোনো দল বা ব্যক্তির নাম না নিলেও, প্রশাসনের অন্দরে এবং সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লুকিয়ে থাকা এই অদৃশ্য মতাদর্শগত বাস্তুতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টাকারী এই শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করে দেশের যুবসমাজকে এক উন্নত ভারত গড়ার মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।