সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তকারী আইপিএস অফিসার নূপুর প্রসাদ পেলেন রাষ্ট্রপতি পদক!

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তকারী সিবিআই দলের নেতৃত্বে থাকা বিশিষ্ট আইপিএস অফিসার নূপুর প্রসাদ এবার রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত হলেন। তাঁর পেশাগত দক্ষতা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয়েছে।

কেরিয়ারের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

২০০৭ ব্যাচের এগমুট ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার তাঁর কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। সিবিআই-তে যোগ দেওয়ার আগে তিনি দিল্লি পুলিশের বিভিন্ন পদে থেকে নিজের কাজের ছাপ রেখেছেন। শাহদারা নতুন জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর তিনিই সেখানকার প্রথম ডেপুটি কমিশনার (DCP) হিসেবে নিযুক্ত হন। ওই নতুন জেলার প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং মাদক ও বেআইনি জুয়ার কারবারের বিরুদ্ধে একাধিক সফল অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। এর পর তিনি উত্তর দিল্লির ডিসিপির দায়িত্বও পালন করেন।

দিল্লি পুলিশের পর সিবিআই-তে কাজের সুযোগ পান নূপুর প্রসাদ। কেন্দ্রীয় সংস্থায় কর্মরতকালীন তিনি বেশ কয়েকটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার তদন্তকারী দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যার মধ্যে শিল্পপতি বিজয় মাল্যের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিতর্কিত ‘অগাস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড’ হেলিকপ্টার চুক্তি কেলেঙ্কারির মতো হাই-প্রোফাইল তদন্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিবিআই-তে তাঁর নির্ধারিত কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি সম্প্রতি পুনরায় দিল্লি পুলিশে ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে সেখানে অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার যুগ্ম কমিশনার (Jt. CP) পদে কর্মরত রয়েছেন। কেরিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং অরুণাচল প্রদেশেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

সুশান্ত মামলা ও নূপুর প্রসাদ

২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। জাতীয় রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তর জলঘোলা হয় এবং পরবর্তীতে মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মৃত অভিনেতার বান্ধবী তথা অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, বিষ প্রয়োগ এবং সম্পত্তি আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

নূপুর প্রসাদের নেতৃত্বাধীন সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে জানায় যে রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা ওই সমস্ত অভিযোগের সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, এইমসের (AIIMS) ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দলও বিষক্রিয়া বা শ্বাসরোধ করে খুনের তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছিল। বর্তমানে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদক পাওয়ার পর নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছেন এই আইপিএস অফিসার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *