‘বারুদের গন্ধ মুছে এবার উন্নয়নের বাতাস!’ নকশাল দমনের ১২ বছর পর কোন নতুন শত্রুর হুঁশিয়ারি মোদীর?

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং উগ্রপন্থা দমনের ক্ষেত্রে গত এক দশকের সফলতার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দিল্লির লালকেল্লা থেকে ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই নকশালবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছিল। যার ফলে আজ দেশের দীর্ঘদিনের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে।

এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ দশক ধরে বন্দুকের নলের জোরে দেশের একটি বড় অংশকে জিম্মি করে রেখেছিল নকশালপন্থীরা। সংবিধানকে অস্বীকার করে তারা যেমন বহু তরুণের জীবন ধ্বংস করেছে, তেমনই তাঁদের মোকাবিলা করতে গিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীকেও প্রাণ হারাতে হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের দৃঢ় সদিচ্ছার ফলেই আজ সেই সমস্ত একদা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় বারুদের গন্ধের পরিবর্তে উন্নয়নের সুবাতাস বইছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের মার্চের মধ্যেই দেশকে সম্পূর্ণভাবে সশস্ত্র নকশাল প্রভাবমুক্ত করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্র—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে সেই কাজ যে সফলভাবে এগিয়ে চলেছে, তারও পরোক্ষ ইঙ্গিত মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

অস্ত্রহীন নতুন বিপদ নিয়ে সতর্কবার্তা

তবে সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করার কাজ সফল হলেও এখনই আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সতর্কবাণী, বন্দুকধারী উগ্রপন্থীরা শেষ হলেও ‘দিমাগি’ বা বিবেকহীন নকশালেরা এখনও বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় রয়েছে। অতীতে প্রশাসনের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ধরনের চিন্তাভাবনার মানুষেরা প্রভাব বিস্তার করত বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরাসরি বিশদ ব্যাখ্যা না দিলেও প্রধানমন্ত্রীর এই ইঙ্গিত মূলত শহুরে উগ্রপন্থী বা মাওবাদী ভাবধারার লোকজনের দিকেই ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করতে এই অদৃশ্য শক্তিগুলি ফের সুযোগের অপেক্ষায় বসে রয়েছে বলে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *