পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে ৮৮ ঘণ্টার ধ্বংসলীলা! ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন ডোভাল

ভারতের উদারতা ও সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশ যে কোনো ঝুঁকি নিতে এবং কঠোর আঘাত হানতে পিছপা হবে না—শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ডিসকভারির আসন্ন ডকুসিরিজ ‘ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর’-এ প্রথমবার এই সামরিক অভিযান নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
গত বছরের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার বদলা নিতে ওই বছরের ৭ মে ভোরে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) থাকা একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। ডোভাল জানান, ৮৮ ঘণ্টার এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শত্রু শিবিরগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া, যারা ওই নাশকতার জন্য সরাসরি দায়ী ছিল।
ডিসকভারির এই দুই পর্বের বিশেষ তথ্যচিত্রটিতে অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে নেওয়া গোপন সিদ্ধান্ত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। দেশের সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা নেতৃত্বের পাশাপাশি শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সরাসরি বিবরণ স্থান পেয়েছে এতে। অনুষ্ঠানে ডোভাল সামরিক প্রতিক্রিয়ার পেছনের নিখুঁত কৌশল এবং ভারতের আপসহীন মনোভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
এদিকে এই অভিযানের পর পালটা আক্রমণ শানিয়েছিল পাকিস্তানও। তবে ভারতের কঠোর প্রতিঘাতের মুখে পড়ে পরমাণু অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই তীব্র সামরিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত ১০ মে সন্ধ্যায় একটি সমঝোতার মাধ্যমে থামে। উল্লেখ্য, এই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর লড়াইয়ে দেশের ৬ জন বীর সেনা শহিদ হয়েছিলেন, যাদের নাম ঘটনার এক বছর পর প্রকাশ করে সরকার। ডিসকভারি ও ডিসকভারি প্লাস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শনিবার রাত ৯টায় প্রিমিয়ার হতে চলা এই তথ্যচিত্রটি ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।