ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় মিলবে ৫০ হাজার টাকা, কোন স্কিমে সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

আজ পশ্চিমবঙ্গে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হলো কন্যারত্ন দিবস। এই বিশেষ দিনে রাজ্যের ছাত্রীদের জন্য একঝাঁক নতুন স্কলারশিপ এবং আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলপড়ুয়াদের অনুদান বাড়ানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণায় খুশির হাওয়া ছাত্রমহলে।
আজ রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্কিম এবং ‘কন্যারত্ন’ স্কলারশিপ। এতদিন অন্যান্য রাজ্যে এই প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে তা ছিল না। এবার থেকে রাজ্যবাসীর জন্যও এই পরিষেবা পুরোপুরি চালু হলো বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
টাকা বাড়ল স্কুলছাত্রীদের
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলছাত্রীরা বছরে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ২ হাজার টাকা করে পাবে। তবে চলতি বছরে ১ হাজার টাকা করেই দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর তালিকা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে আজই প্রথম দফায় ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একবারে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অনটন যাতে কোনওভাবেই ছাত্রীদের পড়াশোনায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে করা এই প্রতিশ্রুতির কথা আজ আবারও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি, ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রীদের জন্য বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের মাধ্যমে বিশেষ আর্থিক সহায়তা চালু থাকছে। অন্যদিকে, বিদেশে পড়াশোনা করতে চাওয়া কিংবা জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষায় পা রাখা কৃতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্বামী বিবেকানন্দের নামে একটি আলাদা তহবিলও গঠন করা হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সমাজে বৈষম্য দূর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সরকার প্রতিটি ছাত্রীর পাশে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।