পাঞ্জাবের অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ!’ স্বর্ণ মন্দিরের পর ফের সুখবীর সিং বাদলের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড়

মহারাষ্ট্রের নান্দেদের একটি পবিত্র গুরুদ্বারে প্রার্থনা করার সময় ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন শিরোমণি আকালি দলের প্রধান তথা পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদল। এই হঠাৎ আকস্মিক হানায় তাঁর হাতে আঘাত লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি বিপদমুক্ত।
ঘটনার খবর পেয়েই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুখবীর সিং বাদলের স্ত্রী ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পাশাপাশি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশও সরাসরি সুখবীর বাদলের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কুশল জানতে চেয়েছেন। এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী নান্দেদের পুলিশ সুপারের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করেছেন এবং ঘটনার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (সিএমও) সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করে ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত হামলাকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। এই হামলার নেপথ্যে প্রকৃত কোন উদ্দেশ্য ছিল কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে কঠোরভাবে জেরা করছে নান্দেদ পুলিশ। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, এই অতর্কিত হামলায় সুখবীর সিং বাদলের একজন দেহরক্ষীও সামান্য আহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিরোমণি আকালি দল। দলের জাতীয় সহ-সভাপতি সঞ্জীব তালওয়ার অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই হামলার নিন্দা করে বলেন, “সুখবীর সিং বাদল সর্বদাই হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্ব এবং পাঞ্জাবিয়াতের পতাকাবাহক। এটি কেবল একজন প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী বা আকালি দল প্রধানের উপর হামলা নয়, বরং পাঞ্জাবের ঐক্য, শান্তি এবং অখণ্ডতার উপর একটি সরাসরি আঘাত।” একই সঙ্গে তিনি জেড+ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া একজন ভিআইপি নেতার ক্ষেত্রে এই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সুখবীর সিং বাদলের ওপর হামলার এই ঘটনা অতীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্মৃতিগুলোকে উসকে দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অমৃতসরের বিখ্যাত স্বর্ণ মন্দিরে একটি ধর্মীয় আচার পালনের সময়ও তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় এক সাবেক সন্ত্রাসী তাঁকে গুলি করার চেষ্টা চালালেও সতর্ক লোকজনের কল্যাওয়ায় তা ভেস্তে যায়। বারবার দেশের হেভিওয়েট ভিআইপি নেতাদের নিরাপত্তা বলয় কীভাবে ভেদ হচ্ছে, তা নিয়ে এখন থেকেই নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।