নতুন শর্ত না মানলে আয় বন্ধ হতে পারে ইউটিউবারদের, জেনেনিন কি শর্ত?

ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে আয় করেন—এমন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়ে এল জনপ্রিয় এই ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। মনিটাইজেশন সংক্রান্ত শর্তাবলীতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত ও পরিষ্কার করেছে ইউটিউব। বিশেষ করে লং ভিডিও, ইউটিউব শর্টস, ইউটিউব প্রিমিয়াম, প্রিমিয়াম লাইট, মিউজিক কনটেন্ট এবং অন্যের কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কীভাবে আয়ের হিসাব করা হবে, তা নতুন শর্তে বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে নতুন শর্তগুলি গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই শর্ত গ্রহণ না করলে ক্রিয়েটরদের আয় অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। নতুন এই নিয়মগুলি কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে অথবা কোনো ক্রিয়েটর এর পরে শর্ত গ্রহণ করলে, তা গ্রহণের তারিখ থেকেই প্রযোজ্য হবে।

ইউটিউবের নতুন মনিটাইজেশন নিয়মে কী কী পরিবর্তন এল?

নতুন শর্তগুলিতে সাধারণ ভিডিও এবং শর্টসের মনিটাইজেশনকে সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামোয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে:

  • লং ভিডিও ও শর্টস: সাধারণ ভিডিওর ক্ষেত্রে ওয়াচ পেজে বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া নিট আয়ের ৫৫ শতাংশ ক্রিয়েটরদের দেওয়ার নিয়ম বহাল রয়েছে। অন্যদিকে ইউটিউব শর্টসের ক্ষেত্রে আলাদা কাঠামো রাখা হয়েছে, যেখানে শর্টস ফিডে বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয়ের ৪৫ শতাংশ ক্রিয়েটরদের দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

  • ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট: নতুন নিয়মের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ‘প্রিমিয়াম লাইট’। এই পরিষেবা থেকে পাওয়া আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ ক্রিয়েটরদের কনটেন্ট কতটা দেখা হচ্ছে, তার ভিত্তিতে ভাগ করা হবে। লং ভিডিও এবং শর্টস—উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

  • ইউটিউব মিউজিক থেকে আয়: কোনো ক্রিয়েটরের কনটেন্ট যদি ইউটিউব মিউজিক প্রিমিয়ামের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সেই কনটেন্ট থেকেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আয় ভাগ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শর্টসে অন্যের কনটেন্ট বা গান ব্যবহার করলে কী হবে?

শর্টস নির্মাতাদের জন্য ইউটিউবের নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শর্টসে যদি অন্যের কনটেন্ট, ভিডিও বা লাইসেন্স করা গান ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ভিডিওর প্রতিটি ভিউয়ের পুরো কৃতিত্ব শুধু আপলোডকারী ক্রিয়েটর একা পাবেন না। কনটেন্টের অবদানের ওপর ভিত্তি করে ইউটিউব সেই ভিউ ও আয় ভাগ করে দিতে পারে। পাশাপাশি, শর্টস থেকে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক আয় পাওয়ার জন্য আগের ৯০ দিনের ভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ন্যূনতম ভিউয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে।

ক্রিয়েটরদের এখন কী করণীয়?

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত থাকা সমস্ত ক্রিয়েটরদের অবিলম্বে নতুন শর্তগুলি ভালোভাবে পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ হলো এই শর্ত গ্রহণের শেষ সময়সীমা। যদিও নতুন নিয়মে সরাসরি আয় কমিয়ে দেওয়ার কোনো ঘোষণা নেই, তবুও প্রিমিয়াম লাইট, মিউজিক এবং শর্টসের ক্ষেত্রে আয়ের হিসাব আরও কঠোর ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কার পকেট ভারী হবে আর কার কমবে, তা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে ক্রিয়েটরের কনটেন্টের ধরন ও দর্শকদের দেখার অভ্যাসের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *