রিটায়ারমেন্টের পর মাইনে বন্ধ, তবুও দিতে হবে ট্যাক্স! কোন কোন আয়ে কড়া নজর আয়কর দফতরের?

চাকরিজীবন শেষের পর বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনার সমস্ত উপার্জনের পথ করমুক্ত হয়ে গিয়েছে। অবসর গ্রহণের পরেও পেনশন, ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি-র সুদ, সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া, শেয়ারের লভ্যাংশ কিংবা বিনিয়োগ বিক্রির মাধ্যমে আসা মুনাফা—সবকিছুই আপনার করযোগ্য আয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তাই দেশের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই বিষয়টি পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত জরুরি যে, কোন ধরনের অবসরকালীন আয় করের আওতাভুক্ত এবং কোনটি করমুক্ত। এই বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকলে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন বা ITR দাখিল করার সময় ভুল হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনই আয়কর বিভাগ থেকে নোটিশ পাওয়ার সম্ভাবনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

অবসর গ্রহণের পর কোন কোন আয় করযোগ্য?
১. মাসিক পেনশন:
অবসর গ্রহণের পর প্রাপ্ত সাধারণ এবং নিয়মিত পেনশন সাধারণত করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হয়। প্রযোজ্য নিয়মাবলী এবং করদাতার বেছে নেওয়া ট্যাক্স রেজিম বা কর ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে এটি সাধারণ ছাড়ের আওতাতেও পড়তে পারে।

২. এফডি এবং সঞ্চয়ের সুদ:
সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD), রেকারিং ডিপোজিট, পোস্ট অফিস ডিপোজিট এবং বিভিন্ন প্রবীণ নাগরিক সঞ্চয় প্রকল্প থেকে অর্জিত সুদ সম্পূর্ণভাবে করযোগ্য। পুরোনো কর ব্যবস্থায় প্রবীণ নাগরিকরা ৮০টিটিবি (80TTB) ধারার অধীনে যোগ্য সুদ আয়ের ওপর ৫০, হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় পেলেও, নতুন কর ব্যবস্থায় এই সুবিধা পাওয়া যায় না।

৩. ভাড়ার মাধ্যমে আয়:
অবসর জীবনের পর বাড়ি, ফ্ল্যাট বা কোনো বাণিজ্যিক দোকান ভাড়া দিয়ে যে আয় হয়, তা সম্পূর্ণ করের আওতাধীন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্ত ভাড়ার ওপর ৩০ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বা সাধারণ ছাড় এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট ছাড়ের সুবিধা মিললেও বাকি অংশ করের আওতায় আসে।

৪. শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড থেকে মূলধনী লাভ:
শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড, জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করে যে ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনী লাভ হয়, তার ওপরও কর দিতে হয়। সম্পত্তির ধরণ এবং তা কতদিন ধরে নিজের কাছে রাখা হয়েছিল, তার ওপর করের হার নির্ভর করে। বার্ষিক তথ্য বিবরণী বা AIS-এ এই তথ্যগুলি প্রতিফলিত হওয়ায় ITR দাখিলের সময় এগুলির সঠিক বিবরণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

৫. লভ্যাংশ এবং বীমা পেনশন:
কোনো বীমা কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত বাৎসরিক অ্যানুইটি বা পেনশন সাধারণত প্রাপ্তির বছরেই করযোগ্য হয়। একইভাবে, শেয়ার থেকে পাওয়া ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশও বিনিয়োগকারীর বার্ষিক আয়ের অংশ হিসেবে ধরা হয় এবং আইন অনুযায়ী এর ওপর ট্যাক্স বসে।

৬. কনসালটেন্সি বা খণ্ডকালীন কাজ থেকে আয়:
অবসর নেওয়ার পরেও যদি কেউ কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন, ফ্রিল্যান্সিং বা পার্টটাইম পেশাগত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে সেই উপার্জনের ওপরও আয়কর দিতে হবে।

৭. অন্যান্য উপার্জনের কর:
ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের পাশাপাশি আয়কর রিফান্ডের ওপর প্রাপ্ত সুদ, স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রাপ্ত পারিবারিক পেনশন এবং নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগ প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থও সঠিকভাবে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *