স্পিকারের চা চক্র বয়কট রাহুলের, আচমকা হাজির কানিমোঝি! ভাঙনের মুখে কি বিরোধী জোট?

বৃহস্পতিবার লোকসভা এবং রাজ্যসভার বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী অধিবেশন শেষে লোকসভার স্পিকারের আয়োজিত চা চক্রে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ এনডিএ শিবিরের শীর্ষ নেতারা। তবে এই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিরোধী শিবিরের অনুপস্থিতি। রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো শীর্ষ নেতারা এই চা চক্র বয়কট করেন। কংগ্রেস বা অন্য কোনও বিরোধী দলের ফ্লোর লিডাররা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ডিএমকের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এই চা চক্রে যোগ দেন কানিমোঝি।

কংগ্রেসের বয়কটের কারণ
অধিবেশন শেষে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক তিক্ততা কমিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করাই স্পিকারের এই চা চক্রের মূল উদ্দেশ্য। দলীয় সূত্রে খবর, প্রথমে সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্পিকার তাঁর প্রথাগত ভাষণ দেননি বা সংসদের কাজকর্ম কেমন চলল তা নিয়ে কোনও রিপোর্ট পেশ করেননি। এই কারণেই বিরোধী দল স্পিকারের ঐতিহ্যবাহী চা চক্র বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।

কানিমোঝির উপস্থিতির নেপথ্যে আসল রাজনীতি
বিরোধী দল যখন ঐক্যবদ্ধভাবে স্পিকারের অনুষ্ঠান বয়কট করল, তখন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি কেন সেখানে গেলেন তা নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কানিমোঝির এই পদক্ষেপকে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:

কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের জোটের বর্তমান সমীকরণ। সম্প্রতি কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের জোট ভেঙেছে।

দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের লড়াই।

আসন্ন সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখা।

কানিমোঝির উপস্থিতি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ডিএমকে হয়তো সরাসরি এনডিএ শিবিরের সঙ্গে নেই, কিন্তু তারা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বিরোধিতাও করছে না।

তামিলনাড়ুর স্বার্থ রক্ষায় ডিএমকের কৌশল
ডিএমকে নেতৃত্ব খুব ভালো করেই বোঝে যে, সংসদে শুধুমাত্র হট্টগোল করলে বা কংগ্রেসের সঙ্গে বয়কটের পথে হাঁটলে তামিলনাড়ুর স্বার্থ রক্ষা হবে না। তারা চায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি এমনভাবে হোক যাতে সংসদে তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা বা কণ্ঠস্বর কোনওভাবেই দুর্বল না হয়। এই লক্ষ্য পূরণের জন্যই শাসক দল এবং লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পেশের সময় রাজ্যের দাবিগুলি যাতে জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়, সেই ভাবনা থেকেই কানিমোঝির এই উপস্থিতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *