সংসদে নজিরবিহীন সংঘাত! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি খারিজ করে কোন বড় দাবিতে অনড় বিরোধীরা?

সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষেরই অনমনীয় ও তীব্র অনড় অবস্থানের জেরে আজ আক্ষরিক অর্থেই ‘ওয়াশ আউট’ হতে চলেছে সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন। সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পিকারকে চিঠি পাঠালেও, বিরোধীরা তাদের পূর্বের দাবিতে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে।

বিরোধীদের অবস্থান ও মূল দাবি
বিরোধী শিবির পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাসের সময় এই বিষয়ে যাবতীয় আলোচনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। সেই বিশেষ বিতর্কের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নতুন করে আর কোনো আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। উলটোদিকে, বিরোধীদের প্রধান দাবি হলো—আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর ছররা গুলি (Pellet Gun) চালানোর অনুমতি ঠিক কার নির্দেশে দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি সংসদে এসে বিবৃতি দিতে হবে।

সংসদের ‘উলটপুরাণ’ ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিরোধীরা যদি নীতিগত ও নিয়মতান্ত্রিক আলোচনায় রাজি থাকে, তবে প্রয়োজনে সংসদের এই বাদল অধিবেশনের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য শুনতে তাঁরা আদতে আগ্রহী নন।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই গোটা ঘটনাকে সংসদের এক অদ্ভুত ‘উলটপুরাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাধারণত সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীরাই বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি তোলে এবং সরকারপক্ষ সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যাচ্ছে—সরকারপক্ষ নিজে থেকে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বিরোধী শিবির তাতে সোজাসাপ্টা ‘না’ বলে দিচ্ছে। কার্যতই এটি সংসদীয় ইতিহাসে একটি অত্যন্ত নজিরবিহীন পরিস্থিতি।

চা-চক্র ও রাজনৈতিক মহলের নজর
এদিকে, অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সংসদীয় প্রথা মেনে স্পিকারের কক্ষে একটি সৌজন্যমূলক চা-চক্রের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আজকের এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সেই চা-চক্রের অনুষ্ঠানে যোগ দেন কি না, এখন সেদিকেই তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *