পরপর তিনবার প্রেগনেন্সি টেস্ট ‘পজিটিভ’! ১৭ বছরের কিশোরীর রিপোর্ট আসতেই মাথায় হাত পরিবারের, আসল সত্যিটা কী?

একের পর এক প্রেগনেন্সি টেস্টের রিপোর্টে বারবার ফলাফল ‘পজিটিভ’! আর সেই রিপোর্ট হাতে পেতেই মাথায় হাত পড়ে ১৭ বছরের এক কিশোরী ও তার পরিবারবর্গের। তবে সরকারি হাসপাতালের সেই রিপোর্ট দেখে ভয় পেয়ে যখন কিশোরীকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, তখনই সামনে আসে আসল কাহিনি। এই সত্য জানার পর রীতিমতো চমকে উঠেছে কিশোরীর পরিবার।

সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট ঘিরে তুলকালাম
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের থানে জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ বছরের ওই কিশোরী পরিবারের অজান্তেই নিজের মতো করে একাধিকবার প্রেগনেন্সি টেস্ট করায়। কল্যাণ-দম্বিভলি এলাকার শাস্ত্রী নগর হাসপাতালে পিরিয়ডের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল সে।

সেই সরকারি হাসপাতালেই কিশোরীর তিনবার প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করানো হয়। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসকরা কিশোরীর পরিবারকে জানান যে, তার প্রেগনেন্সি পরীক্ষার সমস্ত রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ এসেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের অনুমতি বা অবর্তমানে এই খবর সামনে আসতেই তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যায়।

বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কাটল ধোঁয়াশা
ভয় ও আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে কিশোরীর পরিবার তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে আবারও একবার ওই কিশোরীর প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা হয়। আর তাতেই আসল সত্যিটা প্রকাশ্যে আসে। বেসরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কিশোরী আদৌ অন্তঃসত্ত্বা নয়। মূলত পিরিয়ডের নানা শারীরিক সমস্যার কারণেই সে অসুস্থ ছিল এবং ওই হাসপাতালেই কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকরা ওষুধ দিয়ে তাকে ছুটি দেন।

শাস্ত্রী নগর থানায় ক্ষোভ ও তদন্ত শুরু
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরেই শাস্ত্রী নগর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ভূমিকা ও পেশাদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে রোগীর পরিবার। সরকারি হাসপাতালে এত বড় ভুল রিপোর্ট কীভাবে এল এবং এর নেপথ্যে কাদের গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *