সন্তানদের আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে একসঙ্গে আত্মঘাতী দম্পতি! মর্মান্তিক এই ঘটনায় শিউরে উঠবেন

তীব্র মানসিক অবসাদ ও আর্থিক অনটনের জেরে দুই খুদে সন্তানকে রেখেই চরম পথ বেছে নিলেন এক দম্পতি। আত্মীয়ের বাড়িতে গল্পগুজব ও আনন্দ সেরে বাড়ি ফিরে একসঙ্গে আত্মঘাতী হন তাঁরা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গোটা পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, আর এই আকস্মিক ঘটনায় শিউরে উঠেছেন প্রতিবেশীরাও।

ঠিক কী ঘটেছিল?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার নিজামাবাদে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন দম্পতি তাঁদের দুই ছোট সন্তানকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে রেখে আসেন। এরপর বাড়ি ফিরে এসে তারা একসঙ্গে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মৃত দম্পতি হলেন ৩০ বছরের শীসালা মেঘনা এবং তাঁর স্বামী নরেশ। গত মঙ্গলবার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও তীব্র আর্থিক অনটনের কারণেই তাঁরা এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া চিঠিতে মিলল অবসাদের হদিশ
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল অর্থাৎ মৃত দম্পতির ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট বা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবেই মানসিক অবসাদের কথা উল্লেখ করা ছিল। দম্পতি লিখে গেছেন যে, শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতায় দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। পাশাপাশি চরম আর্থিক সংকটের কারণে সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলানোর পর চিকিৎসার ব্যয়বহুল টাকা জোগাড় করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছিলেন।

পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড ও পুলিশের তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে যে, নরেশ পেশায় বিদ্যুৎ দপ্তরের একজন কর্মী ছিলেন এবং মেঘনা ছিলেন সাধারণ গৃহবধূ। এক আত্মীয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নরেশ বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর কিছু শারীরিক সমস্যাও ছিল, যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধও খাচ্ছিলেন। তবে দম্পতির নিজেদের মধ্যে কোনো রকম দাম্পত্য কলহ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল না।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গোটা ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে বিস্তারিত পুলিশি তদন্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *