খাবারে আরশোলা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য! কুইক কমার্সের বাড়বাড়ন্তের মাঝেই সিল Zepto ও Blinkit-এর গুদাম

কুইক কমার্স বা দ্রুত হোম ডেলিভারির যুগে ঘরে ঘরে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানোর হিড়িক বাড়লেও, তার গুণমান ও নিরাপত্তা (Food Safety) নিয়ে দেশজুড়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। আর তারই জেরে এবার একের পর এক জনপ্রিয় ই-কমার্স ও ডেলিভারি সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ শুরু করল প্রশাসন। মঙ্গলবার কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভিযোগে জনপ্রিয় কুইক কমার্স সংস্থা জেপ্টো (Zepto)-র একটি বড় গুদাম সিল করে দিয়েছে কর্নাটক খাদ্য সুরক্ষা দফতর। অন্যদিকে, মুম্বইয়ে গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্লিঙ্কইট (Blinkit) পরিচালনাকারী সংস্থার মালাড (পশ্চিম) কেন্দ্রের লাইসেন্সও স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। একই দিনে কর্নাটকের একটি সরকারি ইন্দিরা ক্যান্টিনও সিল করা হয়েছে।
বেঙ্গালুরুতে জেপ্টোর গুদামে হানা:
জানা গিয়েছে, কর্নাটকের হোসকোটে নিপ্পন এক্সপ্রেসের গুদামে যৌথভাবে অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানে খাবারের সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিং (Storage & Handling), প্যাকেটের লেবেল, গুণমান এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শনের সময় ওই গুদামে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি ভুল লেবেল ব্যবহার, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার মতো তথ্য এবং খাদ্যদ্রব্য মজুত ও ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ হাতেনাতে ধরা পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে গুদামটি সিল করে দেয় প্রশাসন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কঠোর নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুরো বিষয়টি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও জেপ্টোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পরিদর্শনের সময় তারা আধিকারিকদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং তাঁদের দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কর্নাটকের মোট তিনটি ইন্দিরা ক্যান্টিনেও অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গোট্টিগেরে, সিঙ্গাসান্দ্রা এবং লিঙ্গরাজপুরম কেন্দ্রের খাবারে লেবেল, পরিচিতি এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম ধরা পড়ায় গোট্টিগেরে ক্যান্টিনটি সিল করা হয়। সেখান থেকে ডাল, হলুদ, রান্নার তেল, গুড়, নুন, চিনি ও রান্না করা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
ব্লিঙ্কইটের মুম্বই কেন্দ্রে আরশোলার উপদ্রব:
এদিকে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের মালাড পশ্চিমের ব্লিঙ্কইট সেন্টারে পরিস্থিতি ছিল আরও অনেক বেশি ভয়াবহ। সেখানে গুদামের ভেতরে ব্যাপক আরশোলার উপদ্রব (Cockroach Infestation), চরম অপরিচ্ছন্ন কোল্ড স্টোরেজ, মরচে ধরা র্যাকে খাদ্যদ্রব্য সাজিয়ে রাখা এবং সবচেয়ে বড় কথা—মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ও পরিবর্তিত প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রির জন্য মজুত করার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। এই গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের জেরে ব্লিঙ্কইটের ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের লাইসেন্স তৎক্ষণাৎ স্থগিত করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ওই কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের খাবার বিক্রি, সরবরাহ বা খাদ্য সংক্রান্ত ব্যবসা চালানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রিলায়েন্স রিটেইলের দোকানেও হানা:
শুধু জেপ্টো বা ব্লিঙ্কইট নয়, মহারাষ্ট্রের বুলদানা জেলায় রিলায়েন্স রিটেইলের একটি খুচরা দোকানেও আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্যাকেটজাত কাজু কাটলি মিষ্টির ভেতর থেকে জীবন্ত লার্ভা উদ্ধার হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দোকানে মজুত থাকা ওই পণ্যের একটি বড় অংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে এই ধরণের আকস্মিক অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে—গ্রাহকদের স্বাস্থ্যবিধি (Hygiene), কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক উপায়ে খাবার সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সঠিক পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করার মতো মৌলিক নিয়মগুলি না মানলে কোনো সংস্থাকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।