ডিলিমিটেশন বিলে সায় দেব না! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

প্রস্তাবিত লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি হুংকার ছাড়লেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তামিলনাড়ু বিধানসভায় একটি বিশেষ সরকারি প্রস্তাব পেশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই এই ডিলিমিটেশন বিলে তাঁরা সায় দেবেন না। তাঁর মতে, গত কয়েক দশক ধরে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি অত্যন্ত সফলভাবে জাতীয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যের তুলনায় তামিলনাড়ু-সহ সমগ্র দক্ষিণ ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যেমন অত্যন্ত কম, তেমনই তা সম্পূর্ণ সুনিয়ন্ত্রিত।
মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র ক্ষোভ ও যুক্তি:
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, যে রাজ্যগুলি অত্যন্ত সফলভাবে পরিবার পরিকল্পনা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি কার্যকর করেছে, তাদের পুরস্কৃত করার পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যেসব রাজ্যে জনসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে তারাই বাড়তি আসন পেয়ে অযাচিতভাবে উপকৃত হবে। অথচ কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে তামিলনাড়ুর মতো সফল রাজ্যগুলির সংসদীয় আসন ও লোকসভায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব অনেকটাই কমে যাবে। সুশাসনের নীতির সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ও নায্য অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার জোরালো বার্তা দিল বিজয়ের সরকার।
৫৪৩টি আসনেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর দাবি:
কেন্দ্রের আসন পুনর্বিন্যাস নীতির তীব্র বিরোধিতা করলেও, সংসদে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও সংরক্ষণের নীতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁর জোর দাবি, আর কালক্ষেপ না করে অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করা হোক।
তবে এর জন্য লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই বলেই সুনির্দিষ্ট যুক্তি দিয়েছেন বিজয়। তাঁর মতে, বর্তমানে লোকসভায় থাকা মোট ৫৪৩টি আসনের কাঠামোর ভেতরেই মহিলাদের জন্য নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ অনায়াসেই সুনিশ্চিত করা সম্ভব। মোট আসন সংখ্যা বৃদ্ধি না করেই কীভাবে মহিলা সংরক্ষণ সফলভাবে চালু করা যায়, তামিলনাড়ু সরকারের তরফে সেই স্পষ্ট দিশা ও মডেল তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক সুরক্ষার লড়াই:
বিধানসভায় পাস হওয়া এই সরকারি প্রস্তাবটি কেন্দ্রের বিতর্কিত পুনর্বিন্যাস নীতির বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু সরকারের অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান স্পষ্ট করে দিল। বিজয় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাকে কোনোভাবেই ‘অযোগ্যতা’ হিসেবে দেখা চলবে না, বরং দক্ষিণের বিদ্যমান লোকসভা আসনগুলির ভাগ যেকোনো মূল্যে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
কেন্দ্রের কাছে তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে এই পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত পদ্ধতিটি হয় সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনা করা হয়, নতুবা স্থগিত রাখা হয়। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান ৫৪৩টি আসনের মধ্যেই তামিলনাড়ু সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলির সংসদীয় আসন রক্ষা করা এবং একইসঙ্গে সেই কাঠামোর মধ্যেই মহিলা সংরক্ষণ নিশ্চিত করার এই দ্বিবিধ বার্তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল বিজয় সরকার।