৩ বছরে বদলে যাবে বাংলার গ্রাম! রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েতে হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিতে এল বিরাট আপডেট

ডিজিটালভাবে সংযুক্ত এবং উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ আরও দ্রুত ও সুদূরপ্রসারী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতকে তো বটেই, এমনকি পঞ্চায়েত নেটওয়ার্কের বাইরের গ্রামগুলিতেও অপটিক্যাল ফাইবার-ভিত্তিক হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘Telecommunications Right of Way (RoW) Rules, 2024’ বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর থেকেই রাজ্যে টেলিকম পরিকাঠামো তৈরির পথ আরও সুগম হয়েছে। কেন্দ্রের যোগাযোগ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধিত ‘Amended BharatNet Programme (ABP)’-এর নির্মাণপর্ব প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
RoW নিয়মে গতি পাবে BharatNet-এর কাজ:
এই পুরো উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি হলো ২০২৬ সালের ১৫ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা Telecommunications Right of Way (RoW) Rules, 2024। রাজ্যজুড়ে টেলিকম পরিকাঠামো দ্রুত স্থাপনের পথ সহজ করতেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রকের (Department of Telecommunications) পক্ষ থেকে BharatNet-কে এই RoW বিধিমালার আওতায় ‘Special Project’ হিসেবে ঘোষণা করার ফলে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও অনেক দ্রুত হবে। বর্তমানে রাজ্যের মোট ৩,৩৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২,৭৬৭টি ইতিমধ্যেই BharatNet-এর প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের (Phase-I and Phase-II) আওতায় সংযুক্ত রয়েছে। নতুন পর্যায়ে বাকি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে যুক্ত করার পাশাপাশি পুরোনো নেটওয়ার্কগুলিকে আরও আধুনিক ও আপগ্রেড করা হবে।
পঞ্চায়েতের গণ্ডি পেরিয়ে সোজা গ্রামে ব্রডব্যান্ড:
এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অনুমোদিত ABP-র আওতায় চাহিদার ভিত্তিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরের অজপাড়াগাঁ বা প্রান্তিক গ্রামগুলিতেও ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
অপটিক্যাল ফাইবার পরিকাঠামোর এই সম্প্রসারণ শুধুমাত্র ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যেই আটকে নেই। এর ফলে গ্রামীণ মানুষ খুব সহজেই ঘরে বসে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা, অনলাইন সরকারি সুবিধা, পঠনপাঠনের নানা সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে পাবেন। একইসঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে গ্রামীণ বাংলার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল ব্যবধান (Digital Divide) কমিয়ে এনে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।