“১০০ ছুঁইছুঁই বয়সেও একটি পয়সা পেলেন না!” কেএমসি এলাকার প্রবীণ পেনশনভোগীদের বকেয়া নিয়ে ক্ষোভ মলয় মুখোপাধ্যায়ের

রাজ্যের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ইতিমধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলার অন্যতম মূল মামলাকারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় কর্মীদের জানিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের তৈরি করে দেওয়া ইন্দু মালহোত্রা কমিটির মোট তিনটি রিপোর্ট তাঁরা হাতে পেয়েছেন।
আপাতত রিপোর্ট নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়
মলয়বাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মনিটরিং কমিটির দেওয়া এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের সংগঠনকে যথাযথ উত্তর বা প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে। আগামী ১৮ অগাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তার আগে এই রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো রকম ত্বরান্বিত বা সরাসরি মন্তব্য করতে নারাজ তাঁরা।
কেএমসি এলাকার প্রবীণ পেনশনভোগীদের বকেয়া নিয়ে তীব্র হতাশা
রিপোর্টের বিষয়ের পাশাপাশি এ দিন কেএমসি (KMC) বা কলকাতা পৌর কর্পোরেশন এলাকার প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বকেয়ার প্রসঙ্গ জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন মলয় মুখোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন—
“কেএমসি এলাকায় যাঁরা পেনশন হোল্ডার, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা বলছি এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক যে, সরকার একটিবারও তাদের কথা চিন্তা করছে না। আমরা পয়লা জুন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও এই বিষয়টি জানিয়েছি। এই যে কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ২০০৮ সালের আগে অবসর নিয়েছেন, তাঁদের অনেকের বয়স আজ ৮০, ৮৫, ৯০ এমনকী ১০০ ছুঁইছুঁই করছে। বারবার বলার পরেও তাঁরা এখনও পর্যন্ত একটি পয়সাও বকেয়া ডিএ পেলেন না।”
ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও সমন্বয়ের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মলয়বাবু আরও বলেন, “এখন আবার শুনছি যে সরকার নাকি ক্যালকুলেশন করে ব্যাঙ্কগুলোকে পাঠিয়ে দিয়েছে, আর ব্যাঙ্কগুলো এখন টাকা পাঠাচ্ছে না! বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মধ্যে যাতে সমন্বয়ের অভাব না দেখা যায়, তাই তারা নাকি একসঙ্গে ক্রেডিট মেসেজ পাঠাবে। কতখানি সত্যি জানি না, তবে কেএমসি এলাকার এই প্রবীণ মানুষগুলো কবে যে তাঁদের বকেয়া পাওনা হাতে পাবেন, তা আজও অনিশ্চিত।”
আগামী ১৮ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের লক্ষ লক্ষ কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিকদের।