বাঁকিপুরে ইতিহাস গড়ে জয়ের পরই চাকরির ঘোষণা প্রশান্ত কিশোরের! সিভি পাঠাতে বললেন কোন ঠিকানায়?

নির্বাচনে দুর্দান্ত জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় বার্তা দিলেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ তথা জন সূরয পার্টির নবনির্বাচিত বিধায়ক প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। নিজের জয়ী কেন্দ্র বাঁকিপুরে সশরীরে গিয়ে সেখানকার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিরাট আশ্বাস দিলেন তিনি। সরকারি ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ সীমিত থাকলেও, নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বড় ঘোষণা করেছেন পিকে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর চাকরির ব্যবস্থা করতে নিজের দফতরে সিভি (CV) বা বায়োডাটা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাঁকিপুরে বিজেপির দুর্গ পতন
দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অজেয় ঘাঁটি বা শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র। কিন্তু সেই ধারা ভেঙে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বিজেপিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। স্থানীয় ভোটার ও বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানাতে মঙ্গলবার নিজের কেন্দ্রেই বেরিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নিজের রাজনৈতিক ও পেশাগত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বাঁকিপুরের যোগ্য যুবকদের বেসরকারি সংস্থায় ভালো বেতনে চাকরির সুযোগ করে দেবেন। প্রয়োজনে বিহারের বাইরে অন্য রাজ্যের সংস্থাতেও চাকরি দেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন নবনির্বাচিত এই বিধায়ক।
এক থেকে দুই বছরের লক্ষ্যমাত্রা
আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই ১০ হাজার চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন প্রশান্ত কিশোর। এর জন্য অবিলম্বে তাঁর দফতরে নিজেদের বায়োডাটা বা সিভি জমা দেওয়ার জন্য যুবসমাজকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন যে ভবিষ্যতে জন সুরজ পার্টি যদি কখনো বিহারে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তবে গোটা রাজ্যজুড়েই যুবকদের জন্য পর্যাপ্ত ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ অগস্টের হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচনে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বাঁকিপুরে দুর্দান্ত জয় পান প্রশান্ত কিশোর। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর পেয়েছিলেন মোট ৬৪,১৫১টি ভোট, যেখানে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৪৪,৮২৭টি ভোট। ভোটের এই জয়ের ঠিক পরপরই বেকারত্ব দূর করতে পিকে-র এই বড় পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।