‘মেরুদণ্ডহীন’ কটাক্ষের কড়া জবাব! NEET বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গায়ক সোনু নিগম

সঙ্গীতশিল্পী সোনু নিগম (Sonu Nigam) সম্প্রতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন একটি তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে। কয়েক সপ্তাহ আগে নেটপাড়ায় একটি ভিডিয়ো হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলন ও প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের ওপর বেশ বিরক্ত হতে দেখা গিয়েছিল এই জনপ্রিয় গায়ককে। প্রশ্নের উত্তরে কেবল ‘এখন আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে’ বলেই সেখান থেকে দ্রুত সরে যান তিনি। প্রতিবাদের মুখে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছিল তীব্র সমালোচনা। এমনকি একাংশ নেটিজেন তাঁকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলতেও ছাড়েননি। অবশেষে সেই দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সোনু।
নীরবতার পেছনের আসল কারণ
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অবশেষে নিজের নীরবতার নেপথ্য থাকা আসল কারণ খোলসা করেছেন গায়ক। তিনি জানান, যেকোনো সামাজিক বা সংবেদনশীল আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় এবং সঠিক স্থান থাকা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে মুম্বইয়ের মূলস্রোতের সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি একটি মৌলিক শিষ্টাচার শিখেছেন—যে নির্দিষ্ট কাজের জন্য সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়েছে, আলোচনার পরিধি সেই মূল বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
সোনুর স্পষ্ট কথা, সেদিন তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁর প্রয়াত সংগীতগুরু পঙ্কজ উদাসের স্মরণসভায়, তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে। সেই পবিত্র পরিসরে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করাকে তিনি নিজের গুরুর প্রতি চরম অনাদর বলেই মনে করেছেন। পাশাপাশি, তিনি তাঁর বাবার কাছে অতীতে একটি বিশেষ প্রতিজ্ঞাও করেছিলেন—যে বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান বা স্পষ্ট ধারণা থাকবে না, সে বিষয়ে যেন তিনি কখনই প্রকাশ্যে মন্তব্য না করেন।
অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন সোনু
সমালোচকদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে গায়ক জানান, জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কাজ তিনি কম করেননি। ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকারের ব্যবহারের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীদের সঠিক রয়্যালটি পাওয়ার অধিকার—একাধিক সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে তিনি অতীতে একাই সাহসিকতার সঙ্গে সুর চড়িয়েছেন।
বর্তমানে নিজের ফোনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার খাতিরে বা মানসিক শান্তির জন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্যবহার করেন না বলেও জানান তিনি। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সোনু বলেন, তিনি অতীতে নিজের সামাজিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং বহুবার সাহসি ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এখন সময় এসেছে অন্যদেরও এগিয়ে আসার; বাকিদেরও সাহস দেখিয়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের জন্য সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।