বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি কমিটির বিস্ফোরক রিপোর্ট! জারি হল মেগা পেমেন্টের কড়া নির্দেশ!

গত ৮ আগস্ট বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, মনিটরিং কমিটির রিপোর্টগুলি মামলাকারী সংগঠনগুলিকে দুদিনের মধ্যে জমা করতে হবে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন এই বিশেষ মনিটরিং কমিটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছে এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের সঙ্গে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বড় জয় পেয়েছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। তৎকালীন রাজ্য সরকারের সমস্ত যুক্তি ও দাবি খারিজ করে আদালত শতভাগ (১০০%) বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে অত বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন পদ্ধতিতে এবং কত কিস্তিতে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ ও পর্যালোচনা করতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।

বকেয়া ডিএ বিতরণের বর্তমান চিত্র
১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের স্টেটাস অ্যাফিডেভিট অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ প্রদান সংক্রান্ত খতিয়ান বলছে:

এখনও পর্যন্ত ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ সময়কালের জন্য মোট ৭,৭৭১.২১ কোটি টাকা সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে রাজ্যের ৭.৫ লক্ষেরও বেশি কর্মী ও পেনশনভোগী উপকৃত হয়েছেন।

আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বড় পেমেন্টের নির্দেশ
মনিটরিং কমিটির সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৫,০০০ জনের বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে।
কমিটিকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যে ৬৪,৭৫৯ জনের ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। ওই পরিমাণ সরকারি কর্মীদের ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার প্রথম কিস্তির টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কমিটি।

হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ রাজ্য সরকারকে সর্বমোট ১১, ৯৮৩ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বন্টনের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা সম্পন্ন করতে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটি নিয়মিত রাজ্য সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *