অন্য নায়কের সঙ্গে কিয়ারার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য! ট্রোলের ঝড় উঠতেই মুখ খুললেন স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রা

‘টক্সিক’ (Toxic) ছবির ট্রেলার এবং তার পরেই ‘তবাহি’ গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই নেটপাড়ায় রীতিমতো ঝড় বইছে। ছবিতে সুপারস্টার যশের সঙ্গে অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণীর জমজমাট রসায়ন এবং বিশেষ করে বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশ কিয়ারাকে এই ধরনের দৃশ্য নিয়ে ট্রোল করতেও শুরু করেন। প্রশ্ন ওঠে, অন্য কোনো নায়কের সঙ্গে স্ত্রীর এই ধরনের অন্তরঙ্গতা দেখে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? তিনি কি বিরক্ত? তবে সমস্ত জল্পনা ও ট্রোলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিদ্ধার্থ প্রমাণ করে দিলেন যে তিনি একজন অত্যন্ত আধুনিক ও সাপোর্টিভ স্বামী। সমালোচকদের সমস্ত সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি কিয়ারার পাশে শক্ত হাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন।

সিদ্ধার্থের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও স্ত্রীর প্রতি সমর্থন
শনিবার বেঙ্গালুরুতে এক জমকালো ইভেন্টের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে গীতু মোহনদাস পরিচালিত মেগা প্রজেক্ট ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন আপস’-এর ট্রেলার। এই প্রথমবার রুপোলি পর্দায় জুটি বাঁধছেন যশ ও কিয়ারা। ছবির গান ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে জলঘোলা শুরু হলেও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।

রবিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘টক্সিক’-এর ট্রেলার শেয়ার করে কিয়ারা ও গোটা টিমকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান সিদ্ধার্থ। ট্রোলের দিকে এক ফোঁটাও কান না দিয়ে তিনি স্ত্রীর কঠোর পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ ডেডিকেশনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। সিদ্ধার্থ লেখেন, “তোমার চেষ্টা, হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর আবেগ, সব কিছুই বড় পর্দায় ফুটে উঠবে। এটা তোমার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হতে চলেছে, কিয়া!” একইসঙ্গে ছবির পরিচালক গীতু মোহনদাস এবং সহ-অভিনেতা যশকেও সাধুবাদ জানান তিনি। আগামী ২৬ অগস্ট ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখার জন্য যে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিদ্ধার্থ।

পাশে দাঁড়ালেন ‘রকি ভাই’ যশও
শুধু স্বামী সিদ্ধার্থ নন, কিয়ারার ওপর চলা ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন খোদ ‘রকি ভাই’ অর্থাৎ সুপারস্টার যশ। বেঙ্গালুরুর ট্রেলার লঞ্চের মঞ্চেই তিনি কিয়ারার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে, কিয়ারার মতো একজন বড় তারকারও এমন মাটির কাছাকাছি থাকাটা সত্যিই বিরল ও প্রশংসনীয়।

সমালোচকদের এক হাত নিয়ে যশ কিয়ারাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “একজন অভিনেতা হিসেবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাজের খাতিরে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয়। তবে ওসব নেতিবাচক মন্তব্যে পাত্তা দিও না। তুমি যা বিশ্বাস করো, সেখান থেকে কখনও পিছিয়ে না এসে সেটাই করে যাও। সঠিক সময়ে মানুষ ঠিকই কাজের প্রশংসা করবে।” যশ আরও যোগ করেন যে, এই মাল্টিস্টারার ছবিতে কাজ করা একেবারেই সহজ ছিল না, দলের প্রত্যেকে নিজেদের ইগো দূরে সরিয়ে রেখে একযোগে কাজ করেছেন।

কিয়ারার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ‘টক্সিক’
ছবিতে কিয়ারার চরিত্রের নাম ‘নাদিয়া’। এই ডার্ক ও ইনটেন্স ছবিটিতে কাজ করা নিয়ে অভিনেত্রী নিজেও চরম উচ্ছ্বসিত। ট্রেলার লঞ্চের মঞ্চে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে কিয়ারা জানান যে, এই প্রজেক্টটি তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার কেরিয়ারকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ‘টক্সিক’-এর আগে এক অন্য কিয়ারা ছিল, আর এই ছবির মুক্তির পর দর্শক সম্পূর্ণ অন্য এক কিয়ারাকে পর্দায় দেখতে পাবেন। যশ এবং পরিচালক গীতু আমার ওপর যে ভরসা রেখেছেন, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” সমস্ত বিতর্ক ও ট্রোলকে পেছনে ফেলে আগামী ২৬ অগাস্ট বক্স অফিসে এই ছবি কতটা ঝড় তোলে, এখন সেটাই দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *