‘পেট্রল কি তোমার বাবার বাড়ি থেকে আসবে?’ ইথানল বিতর্ক তুঙ্গে তুললেন বিজেপি সাংসদ জনার্দন মিশ্র!

পেট্রলে ইথানল (Ethanol) মেশানো তথা ইথানল ব্লেন্ডিং (Ethanol Blending) নীতি নিয়ে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক জলঘোলা ও বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই আগুনে ঘি ঢাললেন মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার বিজেপি সাংসদ জনার্দন মিশ্র (Janardan Mishra)। কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল নীতিকে জোরালো সমর্থন করতে গিয়ে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক সুরে প্রশ্ন তোলেন, “খাঁটি পেট্রল কি তোমার বাবার বাড়ি থেকে আসবে?” তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
ইথানল ব্লেন্ডিং কেন জরুরি? সাংসদের যুক্তি
কেন্দ্রীয় নীতির সপক্ষে সাফাই গেয়ে সাংসদ জনার্দন মিশ্র জানান যে, ভারত তার মোট জ্বালানি প্রয়োজনের মাত্র ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল নিজ দেশে উৎপাদন করে, আর বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে তেলবাহী জাহাজগুলিকে প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ঘুরে দেশে পৌঁছতে হচ্ছে। এই কঠিন ও জটিল পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20) সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন বিরোধী দল সহ সাধারণ মানুষের একাংশ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
ব্রাজিলের উদাহরণ ও বিরোধীদের আক্রমণ
বিরোধীদের তীব্র ভাষায় নিশানা করে জনার্দন মিশ্র বলেন, “দেশে খাঁটি পেট্রল না থাকলে সেটা আর কোথা থেকে পাওয়া যাবে? ইথানল তৈরি না হলে দেশের গাড়ির জন্য পেট্রল-ডিজেলই বা আসবে কোথা থেকে?” তিনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে দাবি করেন যে, ব্রাজিল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইথানল তৈরি করে এবং সেখানকার সমস্ত গাড়ি ১০০ শতাংশ ইথানলেই চলে। ভারতের গাড়িগুলিও ভবিষ্যতে এই ধরনের বিকল্প জ্বালানিতে চলতে পুরোপুরি সক্ষম বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী মত প্রকাশ করেন।
ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়ে বিরোধীদের দাবি খারিজ
পেট্রলে ইথানল মেশালে গাড়ির ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হয়—বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখেছেন যে ইথানল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও এর আগে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ২০ শতাংশ ইথানলযুক্ত পেট্রল (E20) ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক ক্ষয় বা গাড়ির আয়ু কমে যাওয়ার মতো কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিকল্প জ্বালানি নীতির ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি বায়োগ্যাস, সিএনজি এবং বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন এই বিজেপি সাংসদ। সব মিলিয়ে, দেশের জ্বালানি সংকট এড়াতে ইথানল নীতি নিয়ে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেই দাবি করেছেন তিনি।