হালিশহরে গিয়েই কড়া অ্যাকশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর! ক্লোজ করা হল আইসিকে, সাসপেন্ড আইও

কথামতোই সোমবার হালিশহরে গিয়ে মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। থানায় ওই তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলে আসছিল মৃতের পরিবার। এদিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই কড়া প্রশাসনিক ‘অ্যাকশন’ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। হালিশহর থানার আইসি (IC)-কে অবিলম্বে ক্লোজ করা এবং থানার আইও (IO)-কে সাময়িক সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
আইসি ক্লোজ ও আইও সাসপেন্ড
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “প্রশাসনের প্রতি পরিবারের আস্থা ফেরানো আমাদের একটা বিরাট পাওনা। এখানে পুলিশি গাফিলতি একেবারে স্পষ্ট। এটি যে পুলিশ লকআপে মৃত্যু, তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তাই আর কোনো রাখঢাক না করে হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং আইও-কে সাসপেন্ড করা হলো।” পাশাপাশি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (DM) নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট লেভেল ইনকোয়ারি (Magistrate Level Inquiry) বা বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই ঠিক কতটা অত্যাচার বা নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির প্রতিশ্রুতি
নিহত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী:
চাকরির আশ্বাস: মৃতের স্ত্রীকে প্রথমে থানার সঙ্গে অ্যাটাচ করে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে এবং চলতি বছরের শেষেই তাঁকে একটি গ্রুপ-ডি (Group-D) পদে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।
আর্থিক সাহায্য: পরিবার সরাসরি কোনো অর্থ সাহায্য না চাইলেও, রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (CM Relief Fund) থেকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে।
সন্তানদের দায়িত্ব: পরিবারের দুই সন্তানের লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের সমস্ত দায়িত্ব সরকার নেবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ স্ত্রী ও সন্তানদের সমস্ত দাবি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ও জনরোষ নিয়ে মন্তব্য
অন্যদিকে, সম্প্রতি হালিশহরে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষোভের মুখে পড়া প্রসঙ্গে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “গতকাল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকা চলে এসেছিলেন। যা ঘটেছে, তা পাথরের গল্প নয়, মানুষ নিজের চোখেই দেখেছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ কোনোভাবেই জড়িত নন, এটি সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত জনরোষের ফল। আপনি যদি আগে থেকে প্রশাসনকে বা শিডিউল জানিয়ে আসতেন, তবে আমরাই নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিতাম।”